যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে দুটি পানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। প্রচ- গরমের মধ্যে এই সংকট স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর শহরটির বেমানি ও কুহেস্তাক এলাকার পানি সংরক্ষণাগার দুটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে পুরো অঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পানি সরবরাহ সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে হাজারো মানুষ নিরাপদ খাবার পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এদিকে এলাকায় তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা আবদুল হামিদ হামজেহপুর জানান, বিকল্প উপায়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে পর্যাপ্ত ভূগর্ভস্থ পানির উৎস না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপে হামলা চালানো হয়েছে। তবে তেহরান এ ব্যাখ্যাকে ‘মিথ্যা অজুহাত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সংঘাতের এই নতুন অধ্যায়ে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধের আগুন এবার তাদের মৌলিক চাহিদাÑ নিরাপদ পানির ওপরও আঘাত হেনেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন