× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৫:০৮ এএম

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন

সরকারি-বেসরকারি তথ্যে বিস্তর ফারাক

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৫:০৮ এএম

সরকারি-বেসরকারি তথ্যে বিস্তর ফারাক

গত মে মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে দুই রকম তথ্য মিলেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং বেসরকারি সংস্থা যাত্রী কল্যাণ পরিষদ থেকে। বিআরটিএ বলছে, মে মাসে সারা দেশে ৫৭৫ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৮৬ জনের। অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ দাবি করেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬২২ জন। দুই সংস্থার প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যায় রয়েছে বিস্তর ফারাক। বিআরটিএ বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে আহতের সংখ্যা ৭০৫ জন, যা যাত্রী কল্যাণ সংস্থার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৬৫২ জন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে বিভ্রান্তি হয়েছে। যদিও দুই সংস্থাই তাদের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।

বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে দেশে ৫৭৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭০৫ জন। সংস্থাটি গত ৯ জুন স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি ১১ জুন অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বিআরটিএ তাদের বিভাগীয় অফিসগুলোর মাধ্যমে সারা দেশের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত এবং ২৮০ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৪টি দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৭০টি দুর্ঘটনায় ৭৭ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ৯৮ জন আহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে ৩৩টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়েছেন। রংপুর বিভাগে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৬৬ জন নিহত ও ৬২ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১টি দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৮৯০টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে ছিল মোটরকার বা জিপ ৩০টি, বাস বা মিনিবাস ১২১টি, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ১৮৩টি, পিকআপ ৪৪টি, মাইক্রোবাস ১৮টি, অ্যাম্বুলেন্স ৪টি, মোটরসাইকেল ১৭৮টি, ভ্যান ২৮টি, ট্রাক্টর ১৪টি, ইজিবাইক ২৭টি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ৪০টি, অটোরিকশা ৫৪টি এবং ১৪৯টি অন্যান্য যানবাহন। যানবাহনভিত্তিক নিহতের হিসাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ১৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া মোটরকার দুর্ঘটনায় বা জিপ ১০ জন, বাস বা মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৫৪ জন, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনায় ৮৫ জন, পিকআপ দুর্ঘটনায় ৩০ জন, মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৫ জন, অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৬ জন, ভ্যান দুর্ঘটনায় ১৬ জন, ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় ৮ জন, ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১৭ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ৩৪ জন, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৫০ জন ও অন্যান্য যান দুর্ঘটনায় ১১২ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৬ জন।

অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গত মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে সংগঠনের দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সংগঠনটির দাবি, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়া অনেক দুর্ঘটনার তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, পর্যাপ্ত রোড সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কবাতির অভাবে ফিডার সড়ক থেকে হঠাৎ যানবাহনের মহাসড়কে উঠে আসা, সড়কে মিডিয়ান বা ডিভাইডারের অভাব এবং গাছপালার কারণে অন্ধবাঁকের সৃষ্টি। এ ছাড়া মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে চলাচল, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া ও বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্ত সৃষ্টি এবং ভাঙাচোরা সড়কও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে নি¤œআয়ের মানুষ বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ছাদে যাতায়াত করতে বাধ্য হওয়ায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!