ক্যারিবিয়ান সাগরের ছোট দ্বীপদেশ কুরাসাও ফুটবল ইতিহাসে এক বিশেষ জায়গা করে নিচ্ছে ধীরে ধীরে। আকারে ছোট, সুযোগ-সুবিধায় সীমিত হলেও এই দেশটি ফুটবলের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলছে বিশ্বমঞ্চে। একসময় নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিসের অংশ থাকা এই অঞ্চল ২০১১ সাল থেকে স্বাধীনভাবে ফিফার সদস্য হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করে। সেই সময় থেকেই কুরাসাওয়ের ফুটবল নতুন করে গড়ে ওঠার গল্প শুরু হয়। কুরাসাও মূলত কনকাকাফ অঞ্চলে খেলে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কোস্টারিকার মতো শক্তিশালী দল রয়েছে। এমন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে শুরু থেকেই টিকে থাকা সহজ ছিল না তাদের জন্য। তবুও তারা ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নত করেছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ডাচ ফুটবল স্টাইলের প্রভাব গ্রহণ করে এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের দলে যুক্ত করে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ে তুলেছে।
তাদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৭ সালে ক্যারিবিয়ান কাপ জয়ের মাধ্যমে, যা তাদের আঞ্চলিক পর্যায়ে পরিচিতি বাড়িয়ে দেয়। এরপর গোল্ড কাপে অংশগ্রহণ করে তারা আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করে। এই সময় থেকেই কুরাসাওকে আর ছোট দুর্বল দল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং উদীয়মান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়। সবচেয়ে বড় মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত আসে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তাদের প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে। এই অর্জন কেবল একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নয়, বরং একটি ছোট দেশের জন্য বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রবেশের ঐতিহাসিক ঘটনা। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের অনেক দেশ যেখানে এখনো বিশ্বকাপে পৌঁছাতে পারেনি, সেখানে কুরাসাও নিজেদের নাম লিখিয়েছে ইতিহাসে। বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা সহজ নয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে তারা মূলত অভিজ্ঞতা অর্জন ও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে। তাদের খেলার ধরন সাধারণত রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং ডাচ ফুটবল স্টাইলের টেকনিক্যাল সমন্বয়ে গঠিত। বড় দলের বিপক্ষে তারা ধৈর্য ধরে খেলে এবং সুযোগ পেলে আক্রমণে যায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন