খেলার মাঠে দৌড়ানো, বইয়ের পাতায় ভবিষ্যৎ খোঁজা কিংবা স্বপ্ন দেখার বয়সে বিশ্বের কোটি কোটি শিশু আজ শ্রমের কঠিন বাস্তবতায় বন্দি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু তহবিলের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক চিত্র। বিশ্বের মোট ২৪০ কোটি শিশুর মধ্যে ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত। অর্থাৎ প্রতি ১৭ শিশুর মধ্যে একজন শ্রমজীবী।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব শিশুর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি এমন কাজে নিয়োজিত, যা তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কঠোর শারীরিক পরিশ্রম, বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি পরিচালনা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে তারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের মধ্যে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ১ কোটি ৩ লাখ। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ১ কোটি ২৮ লাখ। আর ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোর রয়েছে ৩ কোটি ৮ লাখ।
তবে দীর্ঘ সময়ের তুলনায় কিছুটা অগ্রগতির চিত্রও রয়েছে। দুই যুগ আগে, অর্থাৎ ২০০০ সালে বিশ্বে শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখে। একই সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশ্বজুড়ে শিশুশ্রমের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র কৃষি খাত। মোট শ্রমজীবী শিশুর ৬১ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ শিশু কৃষিকাজ, মৎস্য, বনজ ও পশুপালন খাতে কাজ করছে। এ ছাড়া গৃহস্থালি ও সেবাভিত্তিক বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে ২৭ শতাংশ শিশু। খনি, উৎপাদন ও নির্মাণসহ শিল্পভিত্তিক কাজে যুক্ত রয়েছে আরও ১৩ শতাংশ শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দারিদ্র্য, বৈষম্য, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে শিশুশ্রমের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, মানসম্মত শিক্ষা এবং পরিবারভিত্তিক অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। শিশুদের হাতে শ্রমের ভার নয়, শিক্ষা ও স্বপ্নের আলো তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ পেলেই কেবল গড়ে উঠবে সত্যিকার অর্থে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন