× UCB Sticker Card
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মেহেদী হাসান খাজা

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

অপরাধে জড়িত বিএনপি নেতারা নজরদারিতে

মেহেদী হাসান খাজা

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

অপরাধে জড়িত বিএনপি  নেতারা নজরদারিতে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত নেতাকর্মীদের কঠোর নজরদারিতে রেখেছে দলীয় হাইকমান্ড। সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ দল গঠনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ শুদ্ধি অভিযান। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের কর্মকা- পর্যালোচনায় ‘পারফরম্যান্স মনিটরিং মেকানিজম’ চালু করেছেন, যার মাধ্যমে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। এরই মধ্যে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু নেতাকর্মীকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া ও বহিষ্কার করা হয়েছে। হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অপরাধী যে-ই হোক না কেনÑ কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আশঙ্কা, বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী সুবিধাবাদী ও অন্য দল থেকে আসা একটি ‘অনুপ্রবেশকারী চক্র’ বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রটিকে চিহ্নিত করতে এবং জন-আস্থা ধরে রাখতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। সম্প্রতি যশোর, মাগুরা, বরিশাল ও কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় অপরাধে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নজির মিলেছে, যাকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। এদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং স্থানীয় প্রশাসনকেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব বিষয়ে সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের যেকোনো অপরাধ থেকে দূরে থাকতে কঠোর নির্দেশ দেন।

বিএনপি হাইকমান্ড সূত্রে জানা যায়, নিরাপদ দেশ গড়তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করারও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। দলের এমন অবস্থান ও সতর্কতায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, অতীতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার পেছনে সুবিধাবাদী ও অন্য দল থেকে অনুপ্রবেশকারী চক্র সক্রিয় ছিল। দলের অভ্যন্তরে এই ধরনের অনুপ্রবেশ রোধ করতে এবং জন-আস্থা ধরে রাখতে দেশব্যাপী দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম কাজ করছে।

অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছেÑ অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কোনো ছাড় নয়। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথাÑ প্রধানমন্ত্রীর এমন কড়া বার্তা দলের বিভিন্ন পর্যায়েও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি দলের তৃণমূলও নড়েচড়ে বসেছে। জনপ্রতিনিধিসহ নেতারা রয়েছেন কঠোর অবস্থানে। সম্প্রতি এর প্রতিফলন দেখা গেছে, যশোর, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন, মাগুরা, চাঁদপুর, বরিশাল ও কুমিল্লায়। এসব স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো দলের নয়, মূলত অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিএনপি দলগতভাবে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাও প্রশংসনীয়। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জনগণ তা এখন বাস্তবে দেখছে। এটি ভালো দিক।

এসব বিষয়ে গতকাল বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’

সার্বিক বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, চাঁদাবাজি, বেআইনি কর্মকা- ও মবসহ বিশৃঙ্খল বিভিন্ন তৎপরতায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা আইন মেনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করবেন।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণ ভালোবেসে বিএনপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসিয়েছে, তাই জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। সেই অঙ্গীকার নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল। জনগণের সেবায় কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তা সহ্য করা হবে না।

এদিকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মানিকগঞ্জ জেলার সব দপ্তর ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সেখানে তিনি বলেন, সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি নির্মূল করতে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজ এবং বালু উত্তোলনকারী আমার দলের নেতাকর্মী এবং আমার নিজের সন্তান হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজনীতি বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকারি দল।  সরকারে থেকেও নিজ দলের নেতাকর্মীরা কোনো অপরাধ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএনপি। এমন নজির আগে কখনো দেখা যায়নি, যা আইনের শাসনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা, তা পূরণের দিকেই হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেÑ তারা বিভিন্ন অপকর্ম করছে। সেক্ষেত্রে কোথাও কোথাও আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরাও সম্পৃক্ত হচ্ছে। সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিতে রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে। কারণ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও মিডিয়াসহ সর্বত্র এখনো স্বৈরাচারের দোসররা রয়েছে। তাদের বিচারের আওতায় এনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এই অপকর্ম চলবে।  তাছাড়া আমি মনে করি না বিএনপি অপকর্ম বা কুকীর্তির সঙ্গে জড়িত। তবে সরকার এসব বিষয়ে কঠোর রয়েছে। কেউ অপরাধে যুক্ত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। কাজেই কেউ অপরাধ করবেÑ সেটা সহজ হবে না বা কেউ এসব করে ছাড়ও পাবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম হচ্ছে এবং বিএনপির ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। দলের যে সব নেতাকর্মী অপকর্মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারও এসব বিষয়ে কঠোর।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডক্টর নুরুল আমিন বেপারি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড় বলছেন এবং এটাতে তিনি বিশ^াসী। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দখল, চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের আধিপত্য ধরে রাখতে যাবতীয় অপকর্ম করছে। এ কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় নেতাদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে বিএনপি তার জনপ্রিয়তা হারাবে। প্রধানমন্ত্রী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সেটাকে দেশের মানুষ স্বাগত জানাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে।  কিন্তু আপনি এখন প্রতিশোধ নিলেই কি আপনার সেই ক্ষতি ফেরত পাবেন বা সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে? হবে না। তা হলে আমরা সেই প্রতিশোধের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) থেকে বেরিয়ে এসে ভাবি যে, আমরা দেশের জন্য, সমাজের জন্য বা মানুষের জন্য কী করতে পারি। সফল হওয়া বা না হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত এই মানসিকতা নিয়ে কেন আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব না? 

ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো একটি জায়গা ঘিরে ফেলেছে এবং আমাদের কোনো সক্রিয় নেতৃত্ব বা কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। সে সময়ে বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের কারণে আমাদের অনেক নেতা বা সক্রিয় কর্মী গ্রেপ্তার হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!