× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সালমান ফরিদ , কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক 

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:১০ এএম

মহাকালে বৃহস্পতি

জ্বালানি ও বিদ্যুতের দ্বিমুখী আঘাত, সংকটে জনজীবন

সালমান ফরিদ , কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক 

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:১০ এএম

জ্বালানি ও বিদ্যুতের দ্বিমুখী আঘাত, সংকটে জনজীবন

বাংলাদেশ বর্তমানে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ক্রান্তিকাল পার করছে। একদিকে মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে একের পর এক জ¦ালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে। অতি সম্প্রতি জ¦ালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বড় অঙ্কের বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ব পরিস্থিতি কেমন ছিল, কোন প্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হলো এবং দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সরকারের এই কঠোর পথে হাঁটা কতটা সঠিক বা জনবান্ধবÑ তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

পর্যালোচনা করলে দেখতে পাওয়া যায়, গত এক দশকে বাংলাদেশে জ¦ালানি তেলের দাম বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০১৬ সালে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশে তেলের দাম কিছুটা কমানো হলেও, পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় তা বাড়ানো হয়। বিশেষ করে ২০২১ সালের নভেম্বর, ২০২২ সালের আগস্ট এবং ২০২৪ সাল থেকে চালু হওয়া প্রতি মাসের ‘স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ’ বা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় পদ্ধতির অধীনে বেশ কয়েকবার দাম ওঠানামা ও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গত এক দশকে ছোট-বড় মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ বার জ¦ালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নকে (ডলার সংকট) প্রধান অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে সরকার জ¦ালানি তেলের দাম বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি আমদানির ‘প্রিমিয়াম’ বা পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ এক ধাক্কায় ৪৫ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সরকারের তরফ থেকে দাবি করা হয়, এই বাড়তি খরচের কারণে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (ওগঋ) ভর্তুকি প্রত্যাহারের শর্ত পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

এই ধারাবাহিকতায় শুধু জ¦ালানি তেলের দাম নয়, সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের দামেও হাত দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতের বড় ধাক্কাটি আসে চলতি বছরের জুনের শুরুতে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক জরুরি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে। গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে (স্ল্যাব অনুযায়ী) সর্বনি¤œ ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৯.৯৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। আর পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৯.৮৫ শতাংশ। প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৩৯ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জও (হুইলিং চার্জ) বাড়ানো হয়েছে, তা প্রায় ২৩.৯৬ শতাংশ। 

এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ, প্রায় সোয়া দুই বছর পর আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো।
দাম বাড়ানোর এই প্রক্রিয়ার পেছনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিশাল অংকের লোকসান এবং বাজেট ঘাটতিকে এবার প্রধান অজুহাত করা হয়েছে। পিডিবির তথ্যমতে, চলতি ও আগামী অর্থবছর মিলিয়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার বিশাল সম্ভাব্য ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দেওয়া এবং বিদ্যুৎ খাতের বাজেট চাপ কমাতেই তড়িঘড়ি করে জুনের শুরু থেকে এই দাম কার্যকর করা হয়েছে।

অবশ্য এটা ঠিক যে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যখন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে, তখন উত্তরাধিকার সূত্রে তারা পেয়েছিল এক ভঙ্গুর ও শোষিত অর্থনীতি। ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট, তলানিতে নামা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (ডলার সংকট) এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণÑ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল নাজুক।

এর সঙ্গে যোগ হয় বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির চরম অস্থিরতা। একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষত, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও নতুন যুদ্ধের ডামাডোল। এই বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (খঘএ) সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক বিঘœ ঘটে এবং সমুদ্রপথে পণ্য ও জ¦ালানি পরিবহনের জন্য জাহাজ ভাড়া বা প্রিমিয়ামের খরচ অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মার্কিন ডলারের বিপরীতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে, যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে টাকার মানকে আরও দুর্বল করে দেয়। ফলে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করে সমপরিমাণ জ¦ালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সংস্কার ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের যে এজেন্ডা হাতে নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দাম বাড়ানোকে একটি ‘অপ্রিয় কিন্তু প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে সরকারের এই নীতি কতটা যৌক্তিক এবং তা আদৌ জনবান্ধব কি না, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতি, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে অসম চুক্তি এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত দেউলিয়া হওয়ার পথে ছিল। আইএমএফ (ওগঋ) এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ঋণের কিস্তি পাওয়ার অন্যতম শর্তই ছিল বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাত থেকে ভর্তুকি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা। সরকারের যুক্তি হলো, রিজার্ভের যে সংকট এবং বাজেটের যে বিশাল ঘাটতি, তাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে কৃত্রিমভাবে দাম ধরে রাখা এখন অসম্ভব। অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে এবং আন্তর্জাতিক ঋণপ্রবাহ সচল রাখতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়েছেন।

কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠ বলছে অন্য কথা। একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা ক্রান্তিকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা। দেশের মানুষ যখন বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি এবং বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট, ঠিক সেই মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এমন বড় আঘাত হানাকে কোনোভাবেই ‘জনবান্ধব’ বলা যায় না।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার আগে বিদ্যুৎ খাতের রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ বা বসিয়ে বসিয়ে টাকা দেওয়ার যে লুণ্ঠনমূলক চুক্তিগুলো ছিল, সেগুলো পুরোপুরি বাতিল বা স্থগিত করতে পারত। বিগত আমলের দুর্নীতিবাজদের পাচার করা টাকা ফেরত আনা কিংবা বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস ও চুরি বন্ধ করার মতো কঠিন সংস্কারে আগে হাত না দিয়ে, সরাসরি গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার সহজ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানোর শামিল, যা এই সরকারের কাছ থেকে মানুষ প্রত্যাশা করেনি।

আমরা জানি, জ¦ালানি ও বিদ্যুৎÑ এই দুটি উপাদান যেকোনো দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এগুলোর দাম একযোগে বাড়লে তা পুরো অর্থনীতিতে ‘ডমিনো ইফেক্ট’ বা চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করে।

সব সময়ের মতই এবারও জ¦ালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। মে ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে ঠেকেছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ পার করে গেছে। বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যস্ফীতি আগামী দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। রপ্তানিমুখী পোশাক খাত (জগএ) এবং অভ্যন্তরীণ মাঝারি ও ভারী শিল্প কারখানায় উৎপাদন খরচ তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যাবে। বিদ্যুতের দাম বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমবে। অনেক কারখানা লোকসান এড়াতে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হবে, যার ফলে বেকারত্ব বাড়বে। কৃষিতে সেচ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই সময় বিদ্যুতের দাম বাড়ায় কৃষি খাতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাল, ডাল ও সবজি উৎপাদনে কৃষকের খরচ বাড়বে। এতে কৃষক যেমন ন্যায্য লাভ থেকে বঞ্চিত হবে, তেমনি বাজারে কৃষিপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

যেকোনো দেশের মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত মানুষই এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান শিকার হয়। সাধারণ মানুষ মোটাদাগে তিনটি বড় সংকটে পড়বে, এগুলো হচ্ছে-

১. সরকারি হিসাব মতেই দেশের মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার (৮.২১ শতাংশ) মূল্যস্ফীতির (৯.৪২ শতাংশ) চেয়ে কম। অর্থাৎ, মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, খরচ বাড়ছে তার চেয়ে দ্রুত গতিতে। ফলে মানুষের ‘প্রয়োগযোগ্য আয়’ বা পকেটের টাকা কমে যাচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।  

২. সাধারণ পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে তাদের খাদ্য তালিকা ছোট করছেন এখন। মাছ, মাংস বা দুধ-ডিম বাদ দিয়ে শুধু ডাল-ভাত খেয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন অনেকে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৩. বিদ্যুৎ বিল মেটাতে গিয়ে নি¤œ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে সন্তানের পড়াশোনার খরচ, গৃহশিক্ষকের বেতন কিংবা পরিবারের জরুরি চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে দিতে হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন উদযাপনে।

এখন প্রশ্ন হলো, এর বাইরে সরকারের অন্য কোনো উপায় বা করণীয় আছে কি? সরকার প্রায়ই দাবি করে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাদের কারণে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। তবে অর্থনীতিবিদ ও জ¦ালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প পথ অবশ্যই ছিল এবং আছে। মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতের অপচয়, চুরি এবং সিস্টেম লস যদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব। এ অবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে অলস ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ দেওয়ার যে ধারা বিগত সরকার তৈরি করেছিল, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বা বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ বাতিল করা উচিত। এতে দেশের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব, যা গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দূর করত।

সরকারকে মাথায় রাখতে হবে, আমদানিনির্ভর কয়লা, এলএনজি বা তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া দীর্ঘমেয়াদি অন্যতম সমাধান। সার্বভৌম জ¦ালানি অনুসন্ধান করতে হবে। দেশের নিজস্ব গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে গত এক দশকে স্থবিরতা ছিল। এ অবস্থায় স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে তীব্র গতিতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়াতে পারলে বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং ডলার সংকট দুই-ই কমবে।

মোদ্দা কথা, বিশ্ব পরিস্থিতির বৈরী হাওয়া এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপের কারণে বর্তমান সরকারের পথচলা যে মসৃণ নয়, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু সংস্কারের নামে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সাধারণ মানুষের প্রধান দুটি জীবন-উপাদান বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া কোনো টেকসই বা জনবান্ধব সমাধান হতে পারে না। সরকারের উচিত কেবল দাম বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণের সহজ পথ না খুঁজে, বিদ্যুৎ খাতের বড় বড় রাঘববোয়ালদের চুক্তি বাতিল করা এবং অপচয় বন্ধে কঠোর হওয়া। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের কাঁধে এই বাড়তি খরচের বোঝা দেশের অর্থনীতিকে এক গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং এই জনমুখী সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!