সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রায়ই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘প্লাস’ বা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার আহ্বানসংবলিত নোটিফিকেশন দেখে থাকেন। এবার সেই ধারায় আরও জোরালোভাবে এগোচ্ছে মেটা। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের জন্য অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট নির্মাতা, এআইভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারকারীসহ নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের জন্য ‘ফেসবুক প্লাস’ ও ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ নামে নতুন সেবাগুলো পরীক্ষা করছে মেটা। একই সঙ্গে আরও উন্নত সুবিধাসম্পন্ন উচ্চস্তরের সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ নিয়েও কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কারণে নতুন আয়ের উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, আর সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক মডেলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক আর্কের প্রধান বিশ্লেষক ফয়সাল কাওসার মতে, মেটা আগামী কয়েক বছরে এআই অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায়। এত বড় ব্যয় বহনের জন্য শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে মানুষ যেভাবে তথ্য খোঁজে ও কনটেন্ট ব্যবহার করে, তাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।
তার মতে, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় করপোরেট বাজারে এখনও তেমন শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি মেটা। ফলে নতুন ব্যবসায়িক আয়ের পথ তৈরি করাই এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য। যদিও বিনামূল্যের ব্যবহারকারীদের কাছে এই উদ্যোগ খুব ইতিবাচক নাও মনে হতে পারে।
বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রুইস্ট সিকিউরিটিজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকে বছরে অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে মেটা। অন্যদিকে ডয়চে ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী বছরই এই খাত থেকে প্রায় ১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব। তবে অনেক বাজার বিশ্লেষক এসব পূর্বাভাসকে অতিরিক্ত আশাবাদী বলে মনে করছেন।
মেটার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোম্পানির মোট আয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন ব্যবসা থেকে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত হলেও বিজ্ঞাপনের বাইরে শক্তিশালী কোনো আয়ের খাত গড়ে তুলতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বিপরীতে, গুগল বহু বছর ধরেই বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করছে। এ বাস্তবতাও মেটাকে নতুন ব্যবসায়িক কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এআই বিশেষজ্ঞ ও এআইএনসিউর্ডের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনীর মতে, মেটার এই উদ্যোগ মূলত এআই খাতে করা বিপুল বিনিয়োগ থেকে দ্রুত আর্থিক সুবিধা পাওয়ার প্রচেষ্টা। তার ভাষায়, প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত কিছু সুবিধা যুক্ত করে নিয়মিত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নতুনভাবে আয় বাড়ানোর পথ খুঁজছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন