বাগেরহাট সদর উপজেলার ২ নম্বর বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর-বৈটপুর সীমান্ত সেতু থেকে বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণকাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক নির্মাণে সরকারি শিডিউল উপেক্ষা করে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং কোথাও কোথাও কলাগাছ দিয়ে পাইলিং করার মতো হাস্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের নজির পাওয়া গেছে। এতে প্রকল্পটির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, খালের পাশ দিয়ে নির্মিত এই সড়কের অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যথাযথ প্রকৌশলগত পাইলিং করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির অনেক জায়গায় পাইলিংয়ের প্রয়োজন থাকলেও ঠিকাদার সেখানে কলাগাছ ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া সড়ক ঢালাই ও ইটের সলিংয়ের কাজে প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে ৩ নম্বর ইটের খোয়া ও অত্যন্ত নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটিতে একটি কালভার্ট নির্মাণের সংস্থান থাকলেও কাজের শুরুতে তার কোনো অগ্রগতি নেই।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, কালভার্ট ছাড়া সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হলে পরে তা ভেঙে পুনরায় কালভার্ট তৈরি করতে হবে, যা সরকারি অর্থের চরম অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর রহমান তুহিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জনস্বার্থে আমাদের জমি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু যেভাবে কাজ চলছে, তাতে এই রাস্তা কত দিন টিকবে তা নিয়ে ঘোর সংশয় আছে। খালের পাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কলাগাছ দিয়ে পাইলিং করা মানে হলো জনগণের সঙ্গে তামাশা করা।’ আরেক বাসিন্দা সোহেল অভিযোগ করেন, পাশের এলাকাগুলোতে উন্নত মানের রাস্তা হলেও এখানে কেন এমন নি¤œমানের কাজ হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। কাজের তদারকির অভাবে অনেক জায়গায় রাস্তা নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই বসে গিয়ে খালের দিকে ধসে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকির অভাবেই ঠিকাদার নিজের খেয়ালখুশিমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত এবং অর্থ আত্মসাৎ করতেই এই অনিয়ম করা হচ্ছে। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং প্রকল্পটি মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্পের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মনি। তার দাবি, ‘প্রকল্পের শিডিউলে পাইলিংয়ের কোনো বরাদ্দ নেই। সরকারি শিডিউল মেনেই কাজ করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কালভার্টের কাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।’
তবে এলজিইডির পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, এলজিইডির নির্মাণ শিডিউলে কলাগাছ দিয়ে পাইলিং করার কোনো বিধান নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এ ছাড়া নি¤œমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন