অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর কেটে গেছে প্রায় আড়াই মাস। ছেলে সহজকে সঙ্গে নিয়ে এখন কাটছে প্রিয়াঙ্কা সরকারের দিনকাল। কাজের মধ্যেই নিজেকে ডুবিয়ে রেখেছেন অভিনেত্রী। মুক্তি পেয়েছে তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’। সিনেমার প্রচারে তাকে সাদা শাড়িতে অংশ নিতে দেখা যায়।
ছেলে সহজকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করছেন জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ঠিক আছি। কাজের মধ্যেই রেখেছি নিজেকে। দারুণ কিছু মানুষ আমাকে ঘিরে রয়েছে। আর সহজও নিজের মতো করে গরমের ছুটি কাটাচ্ছে। ও গান নিয়ে ব্যস্ত, কম্পিউটার, গেমস সব নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। বন্ধুরাও রয়েছে ওর সঙ্গে। আমি যতটা পারছি ওকে সময় দিচ্ছি। বাড়ির সবাই সময় করে দেখা করছে ওর সঙ্গে। রাহুলের মায়ের কথাও আমি বলব না যে খুব ভালো আছেন, সেটা বলার অধিকারও নেই। আমরা নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছি কঠিন সত্যটা মেনে নেওয়ার। সময়ের সঙ্গে সবটা সহজ হয় না। আসলে নিজেকে বোঝাতে হয়, সেটাই করছি। সব ক্ষেত্রেই রাহুল আমায় সাহায্য করত। এখনো ওর দেওয়া কয়েকটা সিরিজ আর সিনেমা লেখা আছে ফোনে যেগুলো দেখার কথা ছিল। এখনো দেখতে পারিনি আমি। আসলে ঘটনার আকস্মিকতাটা এতটাই যে এখনো মেনে নিতে পারিনি। ধীরে ধীরে মেনে নিতে হবে।’
রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত কোন পথে জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপডেট দেওয়ার মতো খবর আমার কাছে নেই। যেগুলো রয়েছে সে বিষয়েও কিছু বলতে পারব না। কারণ এর একটা আইনি দিক রয়েছে। কিন্তু আমরা আশাবাদী। এই আশা করা ছাড়া আমাদের কাছে কোনো অপশন নেই। শুরুর দিন থেকে আমি প্রত্যেককে পাশে পেয়েছি। এটা শুধু আমাদের পরিবারের দাবি নয়, ইন্ডাস্ট্রির সকলেই উত্তর চান যে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল।’
‘তারকাটা’ সিনেমার চরিত্র কতটা উপভোগ করেছেন জানতে চাইলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘যে সময়ে এটার শেষ মুহূর্তের কাজে ফিরেছি আমার বন্ধুরা না থাকলে সম্ভব হত না। ‘তারকাটা’ একটা মজার কাজ। ডার্ক হিউমর রয়েছে, যা আমি খুবই ভালোবাসি। এত রিয়েল অ্যাকশন আগে দেখা যায়নি কোনো বাংলা ওটিটিতে। সব মিলিয়ে খুবই অন্যরকম একটা কাজ দর্শক আনন্দ পাবেন।’
টালিউডের পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই দর্শকের সামনে রয়েছে। যদি ইন্ডাস্ট্রিকে একটা পরিবার বলি, তা হলে এটা ভেবে দেখা ভালো, কোন পরিবারই বা নির্ঝঞ্ঝাট থাকে? সমস্যা তো আসতেই পারে। এক লাখ মানুষ একসঙ্গে কাজ করা মানে সমস্যা লেগেই থাকবে। সেগুলো অনেক বেশি দর্শকের সামনে চলে এসেছে। এটা কোথাও গিয়ে শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা কমায়। আমি শুধু এটুকুই বলব যে, শুরুর দিন থেকে সকলকে যেভাবে পাশে পেয়েছি তার মধ্যে কোনো রাজনৈতিক রং ছিল না। অগ্রজ, অনুজ, পরিচালক, অভিনেতা এমন কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সবাই একটা পরিবার হিসেবে রাহুলকে লেখক হিসাবে ভালোবেসে, বন্ধু হিসেবে ভালোবেসে, ছোট ভাইয়ের মতো ভালোবেসে পাশে ছিলেন। তারা একই সুরে কথা বলেছেন, রং বা বর্ণের ভেদাভেদ ছিল না। যারা পাশে ছিলেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
নতুন সরকারে কাছে প্রত্যাশা অনেক, সে কথা জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী। সবার মতোই বিশ্বাস করি, ভালো কাজ হবে ইন্ডাস্ট্রিতে। আমি চাই অনেক সংখ্যায় কাজ হোক। আমরা সবাই কাজ করার যেন সুযোগ পাই।’
রাহুল নেই, কেটে যাচ্ছে মাস। যে ধারাবাহিকে তিনি অভিনয় করছিলেন, থেমে গেছে সেই ধারাবাহিক। থেমে গেছে, ‘সহজ কথা’-ও। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর বন্ধ ইউটিউব চ্যানেলও! রাহুলের শোতে বিভিন্ন সময়ে অতিথি হয়ে এসেছেন বিভিন্ন জন। তারা বিভিন্ন সময়ে, তাদের নিজেদের মতামত রেখেছেন, শেয়ার করে নিয়েছেন অজানা গল্প। প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ‘সহজ কথা’র নতুন পর্বের জন্য অপেক্ষা করতেন দর্শক। রাহুল নেই, কি হবে সহজ কথার? উত্তরে প্রিয়াঙ্কা বললেন, ‘অনেকেই সহজকে আর আমাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে বলছেন। আসলে সহজের থেকে এটা আশা করা অন্যায় হয়ে যাবে। কারণ, ও তো ১২ বছরের একটা বাচ্চা। আমার মনে হয়, রাহুলের এত বছরের গড়ে তোলা, ওর পরিশ্রম, ওর অধ্যবসায়, শিক্ষা, পড়াশোনা সব কিছুর জন্যই সম্ভব হয়েছে। মানুষকে বিশেষ অনুভব করাতে পারত রাহুল। আমি এটা পারব না। আমি চাই এটা চলুক। কিন্তু কীভাবে সেটা এখনো ভেবে উঠতে পারিনি।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন