চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় মাহমুদুর রহমান (৩৫) নামে এক আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে জীবননগর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসতিপাড়া এলাকার নিজ ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি বসতিপাড়ার ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, শুক্রবার সকালে মাহমুদুর রহমান ঘুম থেকে উঠে সন্তানের জন্য খাবার কিনতে বাইরে যান। বাসায় ফিরে তিনি একটি কক্ষের ভেতরে ঢুকে দরজা আটকে দেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও দরজা না খোলায় ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে স্ত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মাহমুদুর রহমানকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলের সঙ্গে পুত্রবধূর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হতো। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের সবার খোঁজখবর নেন। এরপর হঠাৎই ফোন কেটে দেন এবং কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যুর খবর আসে।
এ বিষয়ে মাহমুদুরের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসারে প্রায়ই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিহত কর্মকর্তাকে একজন শান্ত ও দায়িত্বশীল হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন