মাঠের মহাযুদ্ধে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে কুপোকাত করে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট বুক করেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু থ্রি-লায়ন্সদের বিপক্ষে এই মহাকাব্যিক জয়ের আনন্দ শেষ বাঁশি বাজার পর রূপ নিয়েছে বড় এক বিতর্কে। মাঠের সবুজ গালিচায় যখন ফাইনালে ওঠার উৎসব চলছিল, ঠিক তখনই এক রাজনৈতিক চাল চেলে বসেন কয়েকজন আলবিসেলেস্তে তারকা। মাঠের ভেতরে উদযাপনের সময় তারা এমন এক কা- ঘটিয়েছেন, যা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির নজরে পড়েছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ে জিতলেও মাঠের বাইরের এই গোলমালে এবার বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
উত্তেজনায় ঠাসা সেমিফাইনালের মঞ্চে রোমাঞ্চকর জয়ের পর মেতে ওঠা উদযাপনে আচমকাই মাঠে হাজির হয় এক রাজনৈতিক ব্যানার। ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’Ñ এই বিতর্কিত স্লোগান লেখা ব্যানার নিয়ে পোজ দেন চ্যাম্পিয়ন দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার। ১৯৮২ সালের রক্তক্ষয়ী ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল দ্বন্দ্বকে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের টিকিট কাটার উৎসবে টেনে এনে মূলত ফুটবলের অলিখিত আইন ভেঙেছেন তারা। আন্তর্জাতিক ম্যাচে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে ফিফা বরাবরই জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের কিট, আচরণ বা উদযাপনের কোনো অংশেই এই ধরনের বার্তা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এই ফাউলের দায়ে ফুটবলার থেকে শুরু করে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও কড়া শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
এমন ‘অফসাইড’ কা- আর্জেন্টিনা এই প্রথম ঘটাল, তা কিন্তু নয়। এর আগেও ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে ঠিক একই ব্যানার প্রদর্শন করে ফিফার কড়া পেনাল্টির মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সেবার আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে গুনতে হয়েছিল ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা। এবার সরাসরি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এমন স্পর্শকাতর বিতর্ক উস্কে দেওয়ায় ফিফা এবার কেবল জরিমানাতেই থামবে, নাকি আরও বড় কোনো শাস্তির লাল কার্ড দেখাবে, তা নিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বে এখন জোর গুঞ্জন চলছে। ফাইনালের মহাযুদ্ধের আগে ডাগআউটের এই নতুন দুশ্চিন্তা সামলে আলবিসেলেস্তেরা কীভাবে মাঠের ফোকাস ধরে রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন