ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে ড্রোন প্রযুক্তির একটি প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। একই দিনে দেশটির বিভিন্ন স্থানে পৃথক হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫ জনে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অনুষ্ঠানে যাননি বলে পরে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। রাশিয়া হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, এমন একটি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে যেখানে তাদের ভূখ-ে হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন প্রদর্শন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় কে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা তদন্ত করছে ইউক্রেন।
এদিকে পূর্বাঞ্চলের স্লোভিয়ানস্কে বোমা হামলায় পাঁচজন এবং উত্তরাঞ্চলের সুমিতে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এর আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কিরভ শহরে ছয়জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যবহৃত কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে একটি তেল শোধনাগার ও তেল উত্তোলন স্থাপনায়ও হামলার দাবি করেছে কিয়েভ।
এদিকে রাশিয়া অভিযোগ করেছে, অধিকৃত জাপোরিজিয়া অঞ্চলের একটি পর্যটন শিবিরে ইউক্রেনের রাতের হামলায় চার শিশুসহ ১১ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। মস্কোর দাবি, হামলাটি ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইউক্রেন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ক্রমাগত পাল্টাপাল্টি হামলা, বাড়তে থাকা প্রাণহানি এবং সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুঁজতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন পক্ষ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন