শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৯:৪২ এএম

বিমা খাতের সংকট উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৯:৪২ এএম

বাংলাদেশের অর্থনীতি

বাংলাদেশের অর্থনীতি

জীবন অনিশ্চিত। প্রতিদিনের জীবনে বিপদ ও ঝুঁকি লুকিয়ে আছে নানা আকারে। আর্থিক সুরক্ষার জন্য তাই বিমাকে বলা হয় সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা বলয়। বিশ্বের অনেক দেশেই বিমা খাত অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বৈশ্বিক জিডিপিতে বিমার অবদান প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর অংশমাত্র শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ খাতের সম্ভাবনা যতটা বিশাল, বাস্তবচিত্র ততটাই হতাশাজনক।

২০১৪ সালে ঘোষিত জাতীয় বিমা নীতিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, ২০২১ সালের মধ্যে বিমা খাতের জিডিপিতে অবদান ৪ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি আজও অধরা। সংকট, অনিয়ম ও আস্থাহীনতায় ডুবে থাকা এই খাতের বাস্তবতা উল্টো দিকে ইঙ্গিত করছে। সুতরাং প্রশ্ন উঠতেই পারে, কেন বাংলাদেশের বিমা খাত এখনো মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ?

বৃহস্পতিবার রূপালী বাংলাদেশের ‘আস্থার বিমা বস্তায়’ শিরোনামের বিশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিমা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আস্থার সংকট। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমও এ বাস্তবতা স্বীকার করেছেন। অনিষ্পন্ন দাবি, জটিল দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া, গ্রাহকের হয়রানি, অতিরিক্ত কমিশন, তামাদি প্রবণতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ, এসব কারণে সাধারণ মানুষ বিমার প্রতি নিরুৎসাহিত। বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ গ্রাহক বিমা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত সুবিধা পান না। দাবি মেটাতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এতে বিমা মানুষের কাছে সুরক্ষার প্রতীক না হয়ে প্রতারণার প্রতীক হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য বলছে, কেবল জীবন বিমা খাতেই মোট দাবির ১২ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকার বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দাবি অনিষ্পন্ন। অন্যদিকে নন-লাইফ বিমায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক কোম্পানি দাবির ৯০-৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রেখেছে। বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির রেকর্ড দেখলে বোঝা যায়, এ খাতে আস্থার সংকট কেন দিন দিন গভীর হচ্ছে।

মূল সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির অভাব। বিমা আইন এমনভাবে প্রণীত হয়েছে যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ যথেষ্ট ক্ষমতাহীন। ফলে অনিয়মে লিপ্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তার বদলে তাদের ঘামঝরা টাকা বছরের পর বছর আটকে থাকে কোম্পানির হাতে। ফলে বিমা খাত মানুষের আস্থার কক্ষপথ থেকে ক্রমেই ছিটকে পড়ছে।

সংকটের সমাধান অসম্ভব নয়, তবে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, আইন সংস্কার করে আইডিআরএকে শক্তিশালী করা দরকার, যাতে তারা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, দাবি নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বাধ্যতামূলক করা উচিত। তৃতীয়ত, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছ সেবা চালু করতে হবে, যাতে গ্রাহক সহজেই দাবি জমা ও ট্র্যাক করতে পারেন। চতুর্থত, অনিয়মে জড়িত কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত। পঞ্চমত, বিমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে, যেন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে, বিমা প্রতারণা নয় বরং প্রকৃত সুরক্ষা। মানুষ যেন বলতে পারে, বিমা সত্যিই জীবনের সঙ্গী।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দিতে বিমা খাতের বিকল্প নেই। তাই এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বিমা খাত কেবল সম্ভাবনার গল্প হয়েই থেকে যাবে। 

আমরা আশা করব, রাষ্ট্র, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিমা কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ এই খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। কথার ফুলঝুড়ি না ছড়িয়ে, বাস্তব পদক্ষেপের দিকে হাঁটবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।  
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!