রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে। ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি পরীক্ষাগারে ড্রোন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা জোরদার এবং ফিনল্যান্ডের আকাশসীমায় রহস্যময় ড্রোন শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের বাইরের তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগারে ড্রোনটি আঘাত হানে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে যেকোনো হামলাই ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
২০২২ সালে রুশ বাহিনী কেন্দ্রটি দখলে নেওয়ার পর থেকেই এটি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরকে দায়ী করে আসলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার সীমান্তঘেঁষা ফিনল্যান্ডের ভিরোলাহতি এলাকায় একটি অজ্ঞাত ড্রোনের উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোরে ড্রোনটি শনাক্ত করা হলেও এর উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
অন্যদিকে, গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে ক্রেমলিন। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন শীর্ষ রুশ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পর থেকেই পুতিনের আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুতিনের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমনকি ইন্টারনেটবিহীন ফোন ব্যবহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পুতিন নাকি সম্প্রতি সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনও কমিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ইউক্রেনের জন্য নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে কিয়েভ। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা চালিয়ে মস্কোর অর্থনীতিতে চাপ তৈরির কৌশলও জোরদার করেছে ইউক্রেন।
তবে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। রাশিয়া হামলা অব্যাহত রেখেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলে যাওয়ায় ইউক্রেন সংকট নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন