× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

পানির নিচ থেকে ভেসে উঠল ‘মৃত্যু রেলপথের’ হারানো স্টেশন

ভিনদেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

পানির নিচ থেকে ভেসে উঠল ‘মৃত্যু রেলপথের’ হারানো স্টেশন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি বহনকারী কুখ্যাত ‘মৃত্যু রেলপথের’ একটি ডুবন্ত স্টেশন কয়েক দশক পর আবারও দৃশ্যমান হয়েছে। থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশে একটি জলাধারের পানি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ায় মাটির ওপরে উঠে এসেছে ঐতিহাসিক নিথে স্টেশনের ধ্বংসাবশেষ। বিরল এই ঘটনাকে ঘিরে গবেষক, ইতিহাসবিদ ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বাহিনী থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রায় ৪১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ নির্মাণ করেছিল। যুদ্ধবন্দি ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই রেলপথ নির্মাণে প্রাণ হারান হাজার হাজার মানুষ। অমানবিক শ্রম, রোগব্যাধি ও অনাহারে ১৩ হাজারের বেশি যুদ্ধবন্দি এবং প্রায় ৭৫ হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ায় ইতিহাসে এটি ‘মৃত্যু রেলপথ’ নামে পরিচিতি পায়। লাধারের পানি কমে যাওয়ার ফলে এবার প্রথমবারের মতো স্টেশনটির কাঠামো, রেললাইন ও আশপাশের অবকাঠামো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। গবেষকেরা যুদ্ধকালীন মানচিত্র, আকাশচিত্র ও আধুনিক অনুসন্ধান প্রযুক্তির সাহায্যে পুরোনো যুদ্ধবন্দি শিবির ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। স্টেশনটি ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই বলছেন, এটি শুধু একটি পুরোনো রেলস্টেশন নয়, বরং হাজারো মানুষের ত্যাগ ও মৃত্যুর নীরব স্মারক। গবেষকদের মতে, এই স্থান যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা ও মানবিক বিপর্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে এই দৃশ্য দীর্ঘদিন দেখা যাবে না। বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর এবং বর্ষা শুরু হলে জলাধারটি আবার পানিতে পূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে কয়েক দশকের মতো আবারও পানির নিচে হারিয়ে যাবে নিথে স্টেশন। ইতিহাসবিদদের মতে, সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া এই স্টেশনের পুনরাবির্ভাব শুধু একটি প্রতœতাত্ত্বিক ঘটনা নয়; এটি মানবসভ্যতাকে যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এক বিরল সুযোগ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!