ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় সেনাদের দাবি, শহরটির বিভিন্ন অংশে এখন তীব্র সংঘর্ষ চলছে এবং পুরো এলাকা কার্যত একটি অনির্ধারিত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই শহরের নিয়ন্ত্রণ হারালে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের দিকে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা অনেক সহজ হয়ে যাবে। ফলে সমগ্র দনবাস অঞ্চল দখলের মস্কোর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হতে পারে। ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্র জানিয়েছে, রুশ সেনারা শহরের ভেতরে ধীরে ধীরে অবস্থান শক্ত করছে। গাছপালা, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন এবং নগর অবকাঠামোকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে তারা অগ্রসর হচ্ছে। অপরদিকে জনবল ও রসদের ঘাটতির কারণে ইউক্রেনীয় বাহিনী ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছে। তবে কিয়েভ এখনো শহরটির পতনের আশঙ্কা নাকচ করেছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি কঠিন হলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি এবং প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে ড্রোন হামলা নিয়েও উত্তেজনা বেড়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, রাজধানী মস্কোর দিকে ছোড়া প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য রাজধানীর চারটি প্রধান বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্যও রয়েছেন। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলেও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রুশ ড্রোন হামলায় একটি মালবাহী জাহাজ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে এক মিশরীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজন নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোস্ত্যন্তিনিভকার ভবিষ্যৎ এখন পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে উভয়পক্ষের ড্রোন হামলা ও দূরপাল্লার আক্রমণ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলছে।

