ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

তেলের বাজারে নতুন শক্তি চীন

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই চীনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ইরানকে ঘিরে দীর্ঘ সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা এবং বৈশি^ক সরবরাহ সংকটের মধ্যেও অপরিশোধিত তেলের দাম আশঙ্কার তুলনায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন। বিশে^র দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী দেশটি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমদানি কমিয়েছে, বিশাল কৌশলগত মজুত ব্যবহার করেছে এবং বিদ্যুৎচালিত যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার চাপ অনেকটাই কমেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, চীন এখন তেলের বাজারে এক ধরনের ‘অদৃশ্য ভারসাম্য রক্ষাকারী ‘শক্তি’ হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে ১০০ কোটির বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির দ্রুত বিস্তার জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। এদিকে নতুন এক কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের তেল খাতকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও পরিবহনের ওপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সম্ভাব্য বৃহত্তর সমঝোতার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের তালিকায় রয়েছে ভারত।

দেশটি তার মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। অতীতে ইরান ছিল ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন পরিস্থিতিতে আবারও ইরানি তেল আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের তেল বৈশি^ক বাজারে ফিরলে সরবরাহ বাড়বে এবং তেলের দামের ওপর চাপ কমবে। এতে ভারতের আমদানি ব্যয় হ্রাস, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হলে ভারতসহ এশিয়ার বড় আমদানিকারক দেশগুলো সরাসরি উপকৃত হবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে তেলের বাজারে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নয়, চীনের জ্বালানি নীতি, তেল ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারও মূল্য নির্ধারণের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠবে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের কেন্দ্রবিন্দু ক্রমেই বেইজিংয়ের দিকে সরে যাচ্ছে।