পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা আসনে পরাজয়ের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দায়ের করা মামলায় নির্বাচনে ব্যবহৃত ভোটগ্রহণ যন্ত্র, ভোট যাচাই যন্ত্র এবং ভোট গণনাকেন্দ্রের সব নজরদারি চিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা উচ্চ আদালত। সম্প্রতি ভবানীপুর আসনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি আদালতে মামলা করেন। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেয়, যে বিদ্যালয়ে ভোট গণনা হয়েছিল সেখানে ভেতর ও বাইরের সব নজরদারি যন্ত্রের ধারণকৃত চিত্র সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনে ব্যবহৃত সব ভোটগ্রহণ ও ভোট যাচাই যন্ত্রও নিরাপদে রাখতে হবে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্দেশ মামলার ভবিষ্যৎ শুনানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগেও নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে পরাজয়ের পর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী উভয়েই নিজেদের বৈধ নেতৃত্ব দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথক সাংগঠনিক তালিকা জমা দিয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলীয় নাম, প্রতীক ও তহবিলের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ভোটের ফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্ব নিয়েও নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত মিলছে।

