মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক লাখ ১১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এটি এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতগুলোর অন্যতম। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করলে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সময়ের সঙ্গে সেই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। সংঘাতে প্রাণহানির সরকারি কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ না হলেও পর্যবেক্ষকদের ধারণা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও স্থল সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বহু পরিবার স্বজন হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে দেশের ভেতরেই ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশজুড়ে এক হাজার ২০০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করলেও পরে সামরিক বাহিনী আবার কিছু কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। সৈন্যসংকট মোকাবিলায় গত বছর বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার ব্যবস্থা চালু করে সামরিক সরকার। এর আওতায় হাজার হাজার তরুণকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনেক নতুন সদস্যকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এই সংঘাত এখন শুধু দেশটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে শরণার্থীর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে অস্ত্র, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিস্তার পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সংকটের দ্রুত অবসানের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

