পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঋতুভেদে বৃষ্টিপাতের ধরন ভিন্ন হলেও কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে বৃষ্টি যেন প্রকৃতির নিত্যদিনের নিয়ম। বছরের অধিকাংশ সময়ই এসব অঞ্চলে আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে এবং অবিরাম বৃষ্টিপাত জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্র থেকে আসা আর্দ্র বায়ু এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে এসব এলাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড গড়ে উঠেছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি গ্রাম মৌসিনরাম বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল স্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে বছরে গড়ে প্রায় ১১ হাজার ৮৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প খাসি পাহাড়ে বাধা পেয়ে ঘনীভূত হওয়ায় প্রায় সারা বছরই সেখানে বৃষ্টি ঝরে। স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনও এই অবিরাম বৃষ্টির সঙ্গে মানিয়ে গড়ে উঠেছে।
একই রাজ্যের চেরাপুঞ্জি ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ধরে রেখেছে। মাত্র এক বছরে সেখানে ২৬ হাজার ৪৭০ মিলিমিটার এবং এক মাসে ৯ হাজার ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এত বিপুল বৃষ্টিপাতের নজির পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায়নি। ভারত মহাসাগরের ফরাসি দ্বীপ রেউনিওঁ এক দিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় মাত্র চব্বিশ ঘণ্টায় সেখানে ১ হাজার ৮২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টির রেকর্ডও এই দ্বীপের দখলে রয়েছে। লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়ার ললো ও লোপেজ দে মিকাই অঞ্চলও পৃথিবীর অন্যতম বৃষ্টিবহুল এলাকা। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ুর কারণে সেখানে প্রায় প্রতিদিনই ভারি বৃষ্টিপাত হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মাউন্ট ওয়ায়ালেয়ালে পর্বতেও বছরের অধিকাংশ দিন বৃষ্টি হয় এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাত বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে পার্থক্যটি আরও স্পষ্ট হয়। দেশে বছরে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা সিলেটেও বৃষ্টিপাত বিশ্বের শীর্ষ বৃষ্টিবহুল অঞ্চলগুলোর তুলনায় অনেক কম। এমনকি রেউনিওঁ দ্বীপে এক দিনে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রায় ঢাকার এক বছরের গড় বৃষ্টিপাতের সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর এসব অঞ্চল প্রমাণ করে যে প্রকৃতি কতটা বৈচিত্র্যময়। কোথাও বছরের পর বছর বৃষ্টির দেখা মেলে না, আবার কোথাও আকাশ যেন অবিরাম জলধারা বিলিয়ে দেয়।

