গাজা উপত্যকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন অংশকে বাকি এলাকা থেকে আলাদা করতে ২৩ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ মাটির বাঁধ নির্মাণ করছে ইসরায়েল। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে উঠে আসা এ তথ্য ঘিরে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারিত সাময়িক সীমারেখাই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী বিভাজনে রূপ নিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে গাজার প্রায় অর্ধেকের বেশি এলাকাজুড়ে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী স্বীকার করেছে, তারা তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ বরাবর একটি ভৌত প্রতিবন্ধক গড়ে তুলেছে। তাদের দাবি, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সেনা ও সীমান্তবর্তী জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, দক্ষিণ গাজায় মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাঁধের দৈর্ঘ্য কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্মাণকাজ একই গতিতে চলতে থাকলে এটি দক্ষিণের খান ইউনিস থেকে গাজা সিটির উপকণ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত আরেকটি দীর্ঘ বাঁধের সঙ্গে যুক্ত হবে। একই ধরনের মাটির বাঁধ উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকাতেও দেখা গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে অসংখ্য ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
একসময় ঘনবসতিপূর্ণ রাফাহ শহর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে নতুন সড়ক, সামরিক ঘাঁটি এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের ব্যবহৃত স্থাপনা ধ্বংস করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এই সীমারেখার কাছাকাছি গেলেই গুলির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে শিশু ও নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা শুধু নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজাজুড়ে এই বিশাল মাটির বাঁধ শুধু একটি সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নয়; এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সাময়িক বিভাজন স্থায়ী রূপ নিলে গাজার মানুষের চলাচল, পুনর্বাসন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

