ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

জানালেন শিল্পমন্ত্রী

ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়ার সময়সীমা হবে ১৪ দিন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৬:৩৪ এএম

একটি প্রতিষ্ঠানের নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য লাইসেন্স নেওয়ার সময়সীমা ১৪ দিনে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের নতুন ব্যবসা শুরু করতে যন্ত্রপাতি আমদানি পর্যায়ে যেতে যেসব লাইসেন্স লাগে, তা পেতে সময়সীমা ৩৫৫ দিন থেকে ১৪ দিনে নামিয়ে আনা হবে। অন্যান্য লাইসেন্সও যাতে ভোগান্তি ছাড়া একটা কাঠামোর মধ্যে পায়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। গতকাল বুধবার পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে বাজেটের আকার ক্রমাগত বাড়ানো হলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। এমনকি মনগড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাবও প্রকাশ করা হতো। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩৪ শতাংশ, যেখানে ভারতে এই হার ৪৫ শতাংশ এবং জাপানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। এ কারণে নতুন বাজেটে এসএমই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে ১৫টি চিনিকলের মধ্যে বর্তমানে ৯টি চালু এবং ৬টি বন্ধ রয়েছে। কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লাভে থাকলেও তা মূলত তাদের ডিস্টিলারি ইউনিটের কারণে। ৬০ থেকে ৭০ বছর আগে স্থাপিত এসব কারখানা বর্তমান বাস্তবতায় আগের মতো কার্যকর নয়। আখ চাষের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি আখের ফসল ঘরে তুলতে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। অথচ সেই আখ দিয়ে মিল চালানো যায় মাত্র তিন মাস। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় কারখানা অলস পড়ে থাকে, যা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়।

চিনিশিল্প লাভজনক করতে সুগার বিট চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিট চাষে মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে। একই জমিতে বাকি সময়ে অন্য ফসলও উৎপাদন করা সম্ভব। এ কারণে কয়েকটি চিনিকলকে ধাপে ধাপে বিট সুগার মিলে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিতে শিল্পপার্ক গড়ে তুলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন তিনটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানার উন্নয়নে ইতোমধ্যে রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য জ¦ালানি ও অন্যান্য সুবিধাসহ আকর্ষণীয় প্যাকেজ প্রণয়ন করা হবে, যাতে নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়।

সার কারখানা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকারি সার কারখানাগুলো লাভজনক হলেও গ্যাসের সংকটের কারণে বছরের অনেক সময় বন্ধ রাখতে হয়। ফলে বিদেশ থেকে ডলার ব্যয় করে সার আমদানি করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে শুধু সার কারখানাগুলোর জন্য পৃথক গ্যাস নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সারা বছর উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।