ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পুনঃযাচাই ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। দুদকের বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী পুনঃযাচাই এবং ২০০৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সময়ে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।
সে অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির প্রিন্সিপাল শাখা, ঢাকায় ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কর্মরত শাখা ব্যবস্থাপক ও লকার ইনচার্জদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। দুদকের চাওয়া তথ্যের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, কর্মস্থল, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী ৬ মে ২০২৬ সালের মধ্যে এসব তথ্য দুদকের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এ নির্দেশনা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ১৯ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭ এর ২০ বিধি অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতি, বিদেশে অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এর মধ্যে পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতির ঘটনায় একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার পর সংশ্লিষ্ট আদালত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গত ১০ মার্চ পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দের তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। পরে এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন