ঢাকা রবিবার, ০৭ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

পাল্টাপাল্টি হামলায় টালমাটাল যুদ্ধবিরতি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ০৫:২৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইরান কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে নৌবাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাহিনীর প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় একজন নিহত এবং ষাটের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী। তাদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র দায়ী। যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে হামলাকে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে যে সমঝোতা প্রয়োজন ছিল, তা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তির শর্ত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং নতুন নতুন দাবি সামনে আনছে।

এদিকে সংঘাতের মধ্যেও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে ইরানের ফুটবল দলকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ এমন একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাচ্ছে, যার সঙ্গে তাদের সরাসরি সামরিক সংঘাত চলছে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টাহামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর, কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতিকে শান্ত করতে পারে কি না।