ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেনজীরকে অতি দ্রুত দেশে ফেরানো হবে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৫:০৪ এএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ‘অতি দ্রুত’ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে তিনি এই কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (ফেরত পাঠানোর আবেদন) পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।

তিনি আরও জানান, বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রয়োজনীয় মামলা, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হবে। এরপরই আবুধাবির এনসিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে দ্রুত বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীর আহমেদের এই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম। একই সঙ্গে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে দ-বিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং পাসপোর্ট অর্ডারের আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তার বিপুল অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে দেশে ফেরানোর এই উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার।

এদিকে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ইস্যুতে সরকারকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল। সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের তার বক্তব্যে এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, ‘কজন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ও প্রভাবশালী অপরাধীকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা সরকারের একটি বড় সাফল্য।

দুদক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিদ্যমান আইনি সমঝোতা ও বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে দ্রুত দেশে এনে আদালতের মুখোমুখি করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হয়েছে।