ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ১১ নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে। গতকাল রোববার ভোর ৪টার দিকে সীমান্তের ৭৭ এস-২ পিলারের পাশ দিয়ে এ চেষ্টা চালানো হয়। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এদিকে দুপুরে আরও ১২৫ জনকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। তাদের পুশইন করার চেষ্টা করা হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
অপরদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও বড়াইবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী এবং শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএসএফ ১১ জন বাংলাভাষী নারী-পুরুষকে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিজিবি সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়। বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএসএফ ওই ১১ জনকে দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত থেকে বারাদী-সুলতানপুরের বিপরীতে নিয়ে গেছে। নিজস্ব সূত্রে জানতে পেরেছি, দুপুরে আরও ১২৫ জনকে পুশইনের জন্য সীমান্তের বিপরীতে জড়ো করে রাখা হয়েছে। নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থানে আছে।’
সম্প্রতি এই সীমান্তে বিএসএফের এটিই প্রথম পুশইনের চেষ্টা। বিভিন্ন সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার ঘটনার পর ৬ বিজিবি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও বড়াইবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছেন কয়েকজন নারী, শিশু ও পুরুষ। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে আসামের ধুবড়ি জেলার জালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন। ওই ছয়জনকে কাঁটাতারের কাছাকাছি সীমান্তের ফাঁকা এলাকায় রেখে যায় বিএসএফ। একই সময়ে বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্পসংলগ্ন ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়েও আরও তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান এবং প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রোববার ভোরে দুটি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের বাধার কারণে তারা সফল হতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখনো তারা সাড়া দেয়নি। সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা সতর্ক নজর রেখেছি।’

