ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মান্য

সিলেটে প্রশংসায় ভাসছেন এমপি এমরান চৌধুরী

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এখন সিলেটজুড়ে আলোচনায় রয়েছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট সফরে আসার পর থেকেই মূলত তিনি সর্বস্তরের জনগণের প্রশংসায় ভাসছেন।

মৌলভীবাজার সফরের উদ্দেশ্যে ওইদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ফ্লাইটে সিলেটে আসেন। সে-সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হন সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের এমপিরা। এ সময় সিলেট ও সুনামগঞ্জের এমপিদের দেখে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে সিলেটে না থেকে তাদের সংসদে যেতে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা পাওয়ার পরও অন্যরা ঘটা করে সফরসঙ্গী হন তারেক রহমানের। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি মৌলভীবাজারে দলীয় কর্মসূচিতে না গিয়ে তৎক্ষণাৎ বিমানযোগে ঢাকায় গিয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় সিলেটে। নেতার প্রতি নিখাদ আনুগত্য এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে এমন নিষ্ঠার প্রমাণ দেখানোর পর থেকে গণমাধ্যম ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি আলোচনার শীর্ষবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করছেন, জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এমরান আহমদ চৌধুরী।

দলীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হন। এ সময় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েকজন সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দরে দেখে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। চলমান সংসদ অধিবেশনের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ সংসদ চলছে, আপনারা সংসদে যান। আমি মৌলভীবাজার যাব, আপনাদের এখানে কোনো কাজ নেই, আপনারা সংসদে যান।’

প্রধানমন্ত্রীর এই স্পষ্ট ও কড়া নির্দেশনার পরও সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলার কয়েকজন সংসদ সদস্য ঢাকায় না গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এমরান আহমদ চৌধুরী এবং যথাসময়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন।

পরে সংসদ ভবন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমরান আহমদ চৌধুরী লেখেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এয়ারপোর্টে স্বাগত জানানোর সময় উনার নির্দেশমতো আমি সাথে সাথেই ঢাকায় মহান জাতীয় সংসদে চলে আসি। তারেক রহমান সংসদকে অত্যন্ত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সংসদকে সকল কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাচ্ছেন।’

সকালে সিলেট বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং বিকেলে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর সংসদে উপস্থিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা একে বিপুলভাবে স্বাগত জানান। তাদের অনেকে মন্তব্য করেন, ‘নেতার প্রতি কর্মীর বা শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি একজন সংসদ সদস্যের আনুগত্য ও জবাবদিহিতা কেমন হওয়া উচিত, এমরান আহমদ চৌধুরী সেটি প্রমাণ করেছেন।’ কেউ লেখেন, ‘অন্য এমপিরা যেখানে ক্ষমতার বলয়ে থাকতে মৌলভীবাজারের সমাবেশে ছুটে গেলেন, সেখানে এমরান আহমদ চৌধুরী নেতার আদেশ ও সংসদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সততার পরিচয় দিয়েছেন।’

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের অনড় অবস্থান এবং এমরান আহমদ চৌধুরীর তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়াÑ উভয় ঘটনাই দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক ইতিবাচক ও শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এ বিষয়ে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে সিলেটে তার অনুষ্ঠানে না থেকে সংসদ অধিবেশনে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন আমার কাছে সিলেটের অনুষ্ঠানগুলোতে যোগদানের চেয়ে তার নির্দেশ মান্য করাই প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা তিনি আমার বা আমাদের অভিভাবক এবং সুপ্রিম নেতা। তার নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ আমার ছিল না। আমার কাছে তার বহরের সঙ্গে মৌলভীবাজার যাওয়ার চেয়ে তার নির্দেশ মান্য করার আনন্দ ছিল সর্বাধিক।