সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে গতকাল মঙ্গলবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে রেমিট্যান্সের উৎস প্রধান প্রধান দেশগুলো হলোÑ সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইতালি, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, গ্রিস, জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালদ্বীপ, মরিশাস, স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল, লেবানন, ব্রুনাই দারুস সালাম, জাপান, ইরাক, পোল্যান্ড, সুইডেন ও সাইপ্রাস।
বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ।
রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকে এসেছে ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। এর ঠিক পরপরই তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। এই শীর্ষ তিন দেশ সম্মিলিতভাবে ১৩.১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৩.৪ শতাংশ।
তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। এর পরের অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২.৮০ বিলিয়ন ডলার।
মন্ত্রীর দেওয়া এ পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের শ্রমবাজারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে আবারও সামনে এনেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনÑ এ ছয়টি দেশ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৪৫ শতাংশ।
এদিকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও রেমিট্যান্সের গতি বেশ ভালো ছিল। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইতালি, যেখান থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে ফ্রান্স থেকে ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.২১ মিলিয়ন ডলার এসেছে। এ ছাড়া জার্মানি থেকে ১৮০.৬২ মিলিয়ন ও পর্তুগাল থেকে এসেছে ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার।
প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে অন্য দেশগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২২৭.০৪ মিলিয়ন ডলার, কানাডা থেকে ২২৩.৯৮ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৭৭.০৯ মিলিয়ন ডলার এবং জর্ডান থেকে ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
এর পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০২.৯১ মিলিয়ন ডলার, মালদ্বীপ থেকে ১৪১.০৯ মিলিয়ন ডলার, মরিশাস থেকে ১৪৩.৭১ মিলিয়ন ডলার, জাপান থেকে ১০৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ৮৭.৩৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

