ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড মুখোমুখি

ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত সাম্বা ফুটবলের

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০১:৪৫ এএম

প্রথম ম্যাচ ভালো নয়, দ্বিতীয় ম্যাচ শ্রেয়তর। কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বাস, তৃতীয় ম্যাচেই মিলবে ব্রাজিলের সেরা পারফরম্যান্স। প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডকে অবশ্য সমীহ করছেন তিনি। ম্যাচটি কঠিন হবে বলেও ধারণা তার। তবে ব্রাজিল কোচের আশা, তার দলও প্রত্যাশিত রূপে আবির্ভূত হবে এই ম্যাচেই। তা ছাড়া ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ফুটবলের  পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়র অবশেষে ইনজুরি কাটিয়ে আজ মাঠে নামছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার আগে পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে সেলেসাওদের এগিয়ে থাকার গল্প। বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। যেখানে ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ফুটবল।

গ্রুপে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্যেই এবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামছে তারা। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে নেইমারের প্রত্যাবর্তন। যা আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে যুক্তরাজ্যের দলগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সাফল্যের হার ৮৬.৭ শতাংশ, আর ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে এই হার ৬৫.৪ শতাংশ। বিশ্বকাপে গ্রেট ব্রিটেনের দলগুলোর বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে অপরাজিত ব্রাজিল ৮ জয় ও ২ ড্র।

বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দল বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে ব্রাজিলের ৩ জয় ও ১ ড্র রয়েছে। ১৯৭৪ সালে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হলেও এরপর ১৯৮২ সালে ৪-১, ১৯৯০ সালে ১-০ এবং ১৯৯৮ সালে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় সেলেসাওরা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ধরনের দাপট দেখিয়েছে ব্রাজিল ৩ জয় ও ১ ড্র। পাশাপাশি ওয়েলসকে ১৯৫৮ সালে ১-০ এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ১৯৮৬ সালে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা। সর্বশেষ যুক্তরাজ্যের কোনো দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ ছিল ২০০২ সালে, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা অভিযানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে একটি অদ্ভুত কাকতালীয় তথ্যও রয়েছে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে কোনোবারই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। তাই পরিসংখ্যানের দাপট থাকলেও ইতিহাসের এই ব্যতিক্রমী ছায়া ম্যাচটিকে কিছুটা ভিন্ন মাত্রা দিচ্ছে।

ইনজুরি উড়িয়ে ভোরেই মাঠে নামছেন নেইমার :  ব্রাজিলিয়ান সাম্বা ফুটবলের আসল জাদু যার পায়ে, সেই পোস্টারবয় নেইমার জুনিয়র অবশেষে কাটিয়ে উঠেছেন চোটের অভিশাপ। দীর্ঘ ইনজুরি আর কঠিন পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া শেষ করে সেলেসাওদের জার্সিতে আবারও মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত তিনি। চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আগের দুটি ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী ও আইকনিক ‘১০ নম্বর’ জার্সি পরা কোনো ফুটবলারকে মাঠেই দেখা যায়নি। ফুটবল রোমান্টিকদের সেই মন খারাপের অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজই। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে যদি কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারকে মাঠে নামান, তবে ব্রাজিলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে পেলে ও রিভালদোর পাশে বসে যাবেন তিনি। এ যাবৎ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরে নেইমার খেলেছেন ১৩টি ম্যাচ, যেখানে পেলে চার বিশ্বকাপে এবং রিভালদো দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে খেলেছেন ১৪টি ম্যাচ।

রেকর্ডের এই হাতছানি পুরোপুরি নির্ভর করছে নেইমারের বদলি হিসেবে মাঠে নামার ওপর। ডান পায়ের কাফ মাসেলের ইনজুরি কাটিয়ে নেইমার গত তিন দিন ধরে দলের সঙ্গে একেবারে স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করছেন। তবে এক মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকায় তাকে নিয়ে কোনো রকম তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি নিতে চান না সেলেসাও বস আনচেলত্তি।

তাই তাকে শুরুর একাদশে না রেখে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে কোচের, যাতে ধীরে ধীরে তিনি ম্যাচের চেনা ছন্দে ফিরতে পারেন। যদিও কোচ আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতোই ফিট আছেন। তিনি বলেন, ও প্রচুর কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং আমি ওর পারফরম্যান্সে খুশি। ও চাইলে পুরো ৯০ মিনিটই খেলতে পারে।