ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

সীমান্তে বিজিবির ডিজিটাল ঢাল

ইকবাল হাসান ফরিদ
প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৫:৩১ এএম

একসময় সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব ছিল মূলত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ছিলেন ঘটনার নীরব সাক্ষী। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন সীমান্তের নিরাপত্তা শুধু বিজিবির একার দায়িত্ব নয়, বরং স্থানীয় জনগণও হয়ে উঠছেন সীমান্ত রক্ষার সক্রিয় অংশীদার। ফলে সীমান্তে তৈরি হয়েছে নতুন এক বাস্তবতা। যেখানে প্রহরায় আছে রাষ্ট্রের বাহিনী বিজিবি, আর তাদের পাশে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের কথিত পুশইন, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। সীমান্তের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নজরদারিতে অংশ নিচ্ছেন। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই তারা দ্রুত বিজিবিকে জানাচ্ছেন। আবার কখনো কখনো পুশইন রুখে দিতে তারা বিজিবির সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ঘটনার শুরুতেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের নদীয়া জেলার বজ্রনাথপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার শহরতলা সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে সীমান্তের ১৪২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের ৫ ও ৬ এস সাব-পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে এক নারী ও ছয় পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে নো ম্যান্স ল্যান্ডে নিয়ে আসা হয়। সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রোকনুজ্জামান জানান, বুধবার মধ্যরাতের কোনো এক সময় ওই সাতজনকে ভারতের কাঁটাতার পার করে দেওয়া হয়। তাদের সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এরপর আমরা বিজিবিকে বিষয়টি জানাই। পরে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তাদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ। 

বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বিএসএফ এই সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা তাদের ফিরিয়ে নিয়েছে। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে গত বুধবার ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর পাতাড়ি সীমান্তের আদাতলা বিওপির ২৪৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ নয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওইদিন সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল নয়জন। বিজিবি এবং স্থানীয়দের বাধার মুখে রাতের কোনো একসময়ে লাইট বন্ধ করে বিএসএফ তাদের ভারতে নিয়ে যায়। এর আগে গত ৫ ও ৮ জুন নওগাঁর পোরশা ও সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ৪০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। পুশইনের অভিযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশে প্রায় ৩০০ নারী-পুরুষকে বিএসএফ পুশইনের উদ্দেশে জড়ো করে রেখেছে বলে তথ্য মিলেছে। তবে তাদের এ দেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে যেকোনো মূল্যে রুখে দিতে প্রস্তুত বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। গতকাল বিকেলে মাধবপুরের চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরাইল রিজিওনের ধর্মঘর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম জানান, যেকোনো সময় তাদের বাংলাদেশে পুশইনের (অবৈধ অনুপ্রবেশ) চেষ্টা করা হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে। ওই সভায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকা-ের তথ্য দিয়ে বিজিবি ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত শুধু রংপুর অঞ্চল, যশোর অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চল এবং কক্সবাজার এলাকায় ৮৩টি পুশইন প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৭০৪ জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে ৪০টি, যশোর অঞ্চলে ২৬টি, সরাইল অঞ্চলে ১৬টি এবং কক্সবাজার অঞ্চলে একটি পুশইনের ঘটনা প্রতিহত করা হয়েছে।

এ ছাড়া সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, সিলেট, মৌলভীবাজার, শেরপুর ও বান্দরবানের মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে পুশইনের ঘটনা রুখে দিতে দেখা গেছে বিজিবি ও স্থানীয় জনতাকে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, পুশইন চেষ্টার এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষ দ্রুত তথ্য দিয়েছেন। পুশইন চেষ্টা রুখে দিতে দেশপ্রেমের অংশ হিসেবে নানাভাবে বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রায় চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। এর বড় একটি অংশ দুর্গম এলাকা, পাহাড়, নদী, চর ও জনবসতিপূর্ণ গ্রাম দিয়ে ঘেরা। এত বিশাল সীমান্তে প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারি চালানো যেকোনো বাহিনীর জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা। কারণ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের চেয়ে এলাকায় অপরাধী, চোরাচালানিদের গতিবিধি আর কেউ ভালো জানে না। সীমান্ত এলাকার একজন কৃষক, জেলে, দিনমজুর কিংবা দোকানি প্রতিদিন এমন অনেক কিছু দেখেন, যা কোনো টহল দল বা গোয়েন্দা সংস্থার চোখে তাৎক্ষণিক পড়ে না। রাতের অন্ধকারে সন্দেহজনক চলাচল, অপরিচিত ব্যক্তির আনাগোনা, মাদকের চালান, চোরাকারবারিদের গতিবিধি কিংবা মানবপাচার চক্রের অপতৎপরতা সম্পর্কে প্রথম তথ্য বেশির ভাগ সময় স্থানীয় মানুষের কাছ থেকেই আসে। কিন্তু অতীতে এসব তথ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পৌঁছাতে সময় লাগত। অনেকেই ভয়, অনীহা কিংবা পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মুখ খুলতেন না।

ফলে অপরাধীরা স্থানীয় নীরবতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পার পেয়ে যেত। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে বিজিবি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন সভা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণকে সীমান্ত নিরাপত্তার অংশীদার করা হচ্ছে।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলেই তারা দ্রুত বিজিবিকে খবর দেন। কোথাও কোথাও স্থানীয় মানুষ ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নিয়ে নজরদারিও চালান। ফলে সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে।

তারা বলছেন, চোরাকারবারিরা সাধারণত স্থানীয় পথঘাট ও ভূপ্রকৃতির সুবিধা নিয়ে সক্রিয় থাকে। কিন্তু স্থানীয় জনগণ সচেতন হওয়ায় তাদের জন্য কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ অপরাধীদের গতিবিধি আর গোপন থাকছে না। এই কারণে বিজিবির চোরাচালানবিরোধী অভিযানেও সাফল্য এসেছে। 

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের এই সম্পৃক্ততা সীমান্তে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিজিবির ‘রিপোর্ট টু বিজিবি’ অ্যাপ। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী যে কেউ এই অ্যাপের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন তথ্য সরাসরি বিজিবির কাছে পাঠাতে পারেন। চোরাচালান, মাদক পরিবহন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্দেহজনক চলাচল কিংবা সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয়ও গোপন রাখা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

সূত্রমতে, আগে কোনো ঘটনা জানাতে স্থানীয়দের থানা, ক্যাম্প বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো। এখন কয়েকটি ক্লিকেই তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। এতে সময় যেমন কমছে, তেমনি বাড়ছে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাও।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রের তথ্যমতে, ‘রিপোর্ট টু বিজিবি’ প্ল্যাটফর্ম চালুর পর এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭৭৩টি তথ্য পেয়েছে বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছেÑ মাদকসংক্রান্ত ২৯৪টি তথ্য, চোরাচালানবিষয়ক ১৫১টি,  সীমান্ত হত্যা-সংক্রান্ত ১৪৭টি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম-সংক্রান্ত ১২৯টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ৯৭টি, মানবপাচার-সংক্রান্ত ৮৭টি, অস্ত্র উদ্ধার-সংক্রান্ত ৮০টি, গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত ৬০টি ও অন্যান্য বিষয়ে ৭২৮টি তথ্য।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণকে এখন বিশ্বের অনেক দেশই গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তি, স্থানীয় তথ্য এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বয় সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও কার্যকর করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন শুধু দর্শক নন, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের দেওয়া তথ্য, সতর্কতা এবং সহযোগিতা সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জটিল করতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি। একই সঙ্গে সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। যারা তথ্য দিচ্ছেন, তাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে জনসম্পৃক্ততা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনেক ক্ষেত্রে মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় তথ্য এখন গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সম্পদে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত রক্ষার লড়াই আর শুধু কাঁটাতারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন সেই লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে সীমান্তের কৃষক, জেলে, দোকানি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের চোখ-কান হয়ে উঠছে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয়।

বিএসএফের পুশইন প্রতিরোধ থেকে শুরু করে চোরাচালান দমন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো কিংবা সন্দেহজনক তৎপরতার খবর দেওয়া, সব ক্ষেত্রেই সীমান্তবাসীর অংশগ্রহণ নতুন এক বার্তা দিচ্ছে।