ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত ও সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কারাকাসে বহু ভবন ধসে পড়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিরাপত্তার জন্য খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ ছিল ভূমিকম্প দুটির অগভীর গভীরতা। ভূমিকম্প সাধারণত কেন্দ্রের গভীরতার ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত। শূন্য থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরতায় সংঘটিত কম্পনকে অগভীর ভূমিকম্প বলা হয়। ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত মধ্যবর্তী এবং এর চেয়ে গভীরে সংঘটিত কম্পনকে গভীর ভূমিকম্প হিসেবে ধরা হয়। ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ ও ২২ কিলোমিটার। ফলে ভূগর্ভে উৎপন্ন শক্তি খুব কম দূরত্ব অতিক্রম করেই সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানে। এ কারণেই কম্পনের তীব্রতা এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীর ভূমিকম্পে ভূকম্পীয় তরঙ্গ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সময় শক্তির বড় অংশ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু অগভীর ভূমিকম্পে সেই সুযোগ থাকে না। ফলে বসতবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরাসরি আঘাতের মুখে পড়ে। ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একটি ২২ তলা ভবন ধসে পড়া এবং বিভিন্ন স্থানে সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ার ঘটনাও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন।
একই মাত্রার কোনো ভূমিকম্প যদি অনেক গভীরে সংঘটিত হতো, তা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারত বলে মনে করছেন গবেষকেরা। অগভীর ভূমিকম্পের আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো পরাঘাত। মূল কম্পনের পর একাধিক ছোট বা মাঝারি কম্পন আঘাত হানতে পারে, যা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনকে সম্পূর্ণ ধসে দিতে পারে। ভেনেজুয়েলায় প্রধান দুই ভূমিকম্পের পর অন্তত ২০টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনা ছিল যুগল ভূমিকম্পের একটি বিরল উদাহরণ। প্রথমে একটি শক্তিশালী পূর্বকম্পন এবং মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরে আরও বড় মূল কম্পন আঘাত হানে। ফলে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগও পায়নি। গবেষকদের ভাষায়, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে শুধু মাত্রা নয়, গভীরতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

