ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর

ডিজিটাল লেনদেনে বড় পদক্ষেপ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

দেশে নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ (ইধহমষধ ছজ) ব্যবহারে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়বে, কমবে নগদ অর্থের ব্যবহার এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গঠনের পথ আরও সুগম হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর লেনদেনবিষয়ক ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নগদ লেনদেনের বিকল্প হিসেবে বাংলা কিউআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় গ্রাহকেরা খুচরা টাকার ঝামেলা ছাড়াই নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে লেনদেন হবে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ।’

ড. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমবে এবং অর্থনীতির প্রকৃত আকার আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’ তিনি ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নিজস্ব অ্যাপসে বাংলা কিউআর সুবিধা সংযোজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন। অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে কর-জিডিপি অনুপাত উন্নত হবে, কারণ অধিকাংশ লেনদেন আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আসবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকা-ও আরও গতিশীল হবে।

তিনি জানান, আগামী বছর দেশে একটি ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইপিএস) চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো মোবাইল ওয়ালেট থেকে ব্যাংক হিসাব কিংবা ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল ওয়ালেটে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। কবির আহমেদ বলেন, শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো আর্থিক খাতে সংযোগ বাড়াবে এবং লেনদেনের খরচ কমাবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনেও দ্রুত অর্থ পাঠানো সম্ভব হবে, যা মানুষের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের প্রতিটি ধাপের একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ট্রেইল থাকে। ফলে অর্থের গতি-প্রকৃতি অনুসরণ সহজ হবে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এর আগে বেলা ১১টায় আয়োজিত ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. হাবিবুর রহমান ও কবির আহমেদ। এ সময় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিনসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানো এবং ক্যাশলেস ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশনস ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ভোগ্যপণ্য ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অস্থায়ী স্টলগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলা কিউআর স্ক্যান করে কেনাকাটা ও বিল পরিশোধের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।