প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মাত্র কদিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। তার মানে আমরা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য যে কাজগুলো ভালো, সেই কাজগুলো করলে সবাই উপকৃত হবে। আমাদের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এলাকার পরিবেশের যদি খেয়াল না রাখি, তা হলে ভুক্তভোগী আমরাই হব।’
গতকাল সোমবার দুপুরে বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর শাখা সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এক দিনের সফরে এসে প্রথম গৌরনদী এবং পরে বরিশাল নগরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। জাঁকজমকহীন এবং সাদামাটাভাবে এ কর্মসূচি হলেও দিনভর নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ভিতকে ঝাঁকি দিয়ে সতেজ করে দিয়ে গেলেন দলীয় প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী দুপুরে সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণকালে আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিই আমাদের দেশের পরিবেশ যেন সুন্দর থাকে। আমরা যেখানে বসবাস করি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।’ তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, এই সাগরদী খালের পাড়ে সাড়ে তিন শ গাছ রোপণ করা হবে। এলাকাবাসীর দায়িত্ব হলো এসব গাছের যতœ নেওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সারওয়ার এমপি, উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ সদস্য আকন কুদ্দুসুর রহমান প্রমুখ।
বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ : এর আগে সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাটাজোর অশ্বিনীকুমার ইনস্টিটিউশন মাঠে প্রধানমন্ত্রী উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে দেশের ৪ কোটি পরিবারের নারীপ্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গড়ে প্রতিটি উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার পরিবার এ সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকারের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই জনগণের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে এবং জনগণ যতক্ষণ পাশে থাকবে, বিএনপি কোনো বাধাই মানবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই, সামনে এগিয়ে নিতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশটাকে একদিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশা আল্লাহ।’
সরকারপ্রধান বললেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার স্নাতক পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ চালু করবে। যেসব ছাত্রী ভালো ফল করবে, তাদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
মহাসড়ক ৬ লেনে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী : বিকেলে বরিশাল নগরের শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ৬ লেন করে পায়রা বন্দরকে সচল করার আহ্বান জানান। দেশের অর্থনীতিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। এ সময় হলভর্তি নেতাকর্মীরাও ৬ লেনের দাবি জানান। তবে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আপনারা আশা করেছেন ৬ লেনের কথা বলব। আমি কিন্তু হ্যাঁ বলিনি। কেননা, বুঝেসুঝে কথা দিতে হয়।’
হাইব্রিড ও গুপ্তে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী : সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শিগগির শুরু করব। কিন্তু এ কার্যক্রম করতে গিয়ে হাইব্রিড এবং গুপ্তÑ এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দলে মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু অনৈক্য করা যাবে না। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে হাইব্রিড, গুপ্ত ফ্যাসিস্ট ঢুকতে পারবে না।’
বরিশাল সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নুসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

