গণঅভ্যুত্থানে দেশ শেখ হাসিনার ১৬ বছরের অপশাসন থেকে মুক্ত হলেও পুলিশ বাহিনীতে এখনো রয়ে গেছে কালো ছায়া। দুই লাখের বেশি সদস্যের বাহিনীতে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, অপরাধ ও অত্যাচারের ভূত তাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। প্রায় দুই বছর পার হলেও পুলিশের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে পারেনি বর্তমান সরকার। এরই মধ্যে শতাধিক অভিযুক্ত কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। এর বাইরে সরকার ও বাহিনীকে বেকায়দায় ফেলতে বা সুনাম নষ্ট করতে নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন পুলিশের একশ্রেণির সদস্য, যারা আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য পাচার, ভোল পাল্টে পদোন্নতি বা লাভজনক স্থানে পদায়ন, প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি চাঁদাবাজি এবং মাদক কারবারে যুক্ত থেকে সরকার ও বাহিনীর সুনাম নষ্ট করছেন তারা। এমন বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িত থাকা ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ শতাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তালিকা করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
তালিকা তৈরির পরপরই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে পুলিশ বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে বলে জানা গেছে। পুলিশের কাজে গতি ফেরাতে এবং দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অসাধু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হবে। তথ্য পাচার, দলীয় বা ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধের পাশাপাশি ‘আওয়ামী পুলিশে’র দুর্নাম ঘোচাতে মাঠপর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এই কঠোর শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা যেন রাজনৈতিক দল বা আত্মীয়-স্বজনের নাম ভাঙিয়ে একক প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সেজন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অতীতে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা বিতর্কিত বলয় বা একক প্রভাব খর্ব করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধী, দুর্নীতিবাজ এবং দায়িত্বহীন পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে বরখাস্ত, গ্রেপ্তার, বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর। গুরুতর অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকার পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অপরাধীদের দমনে একযোগে দ্বিমুখী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একদিকে বাহিনীর ভেতরে দলীয় প্রভাব ও অনিয়ম দূর করতে ‘শুদ্ধি অভিযান’ এবং অন্যদিকে অপরাধ দমনে দেশজুড়ে ‘বিশেষ ব্লক রেইড’ বা চিরুনি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বলয় ভাঙতে পুলিশে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে। দোষীদের বরখাস্ত বা বদলির পাশাপাশি আইনিব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের নবনিযুক্ত আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের ধরতে দেশজুড়ে বিশেষ ব্লক রেইড ও চিরুনি অভিযান চালানো হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতার কারণে দেশের সামগ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। একের পর এক ভয়াবহ অপরাধ ঘটেই চলেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে অভিযানে গিয়ে পুলিশের ওপর বারবার হামলার ঘটনা ঘটায় অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার চেষ্টা করছে জনসাধারণের মনে পুলিশের প্রতি আস্থা ও আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। এজন্য বাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান জরুরি, বাহিনীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারলে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হবে বলে মত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দুই বছর হলো, অন্তর্বর্তী সরকার ও তারেক রহমানের সরকারের দায়িত্বকালে পুলিশে এসেছে ব্যাপক রদবদল। আন্দোলনকালে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণের অভিযোগে সে সময় আইজিপিসহ বাহিনীটির অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আবার কেউ দেশের ভেতরেই আছেন আত্মগোপনে। আবার শতাধিক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক অবসরে। এতকিছুর পরও ‘আওয়ামী পুলিশ’-এর সদস্যরা ফের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। তারা স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে সরকার ও বাহিনীকে বিপদে ফেলছে প্রতিনিয়ত।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পুলিশ বাহিনীর ভিতরের তথ্য বাইরে পাচার হচ্ছে নিয়মিত। এ বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, ঊর্ধ্বতন থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা দেশের বাইরে তথ্য পাচার করছে। আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ বা ১৬ বছরের সুবিধাভোগীরা নিষিদ্ধ দলটির পলাতক নেতাকর্মীদের কাছে গোপনে তথ্য পাচার করছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ভারতীয় মিডিয়ায় তথ্য চলে আসছে। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য পাচারে জড়িত থাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্যের একটি তালিকা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যদের অপরাধ ঠেকাতে প্রতিটি ইউনিটিতে বা জেলায় জেলায় বিশেষ টিম গঠন করা হবে। ওই টিমের কাজ হবে শুধু অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যদের কর্মকা- নজরদারি করে আইনের আওতায় আনা। পুলিশ বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত করতে শুদ্ধি জরুরি। যেসব পুলিশ দায়িত্বের ঊর্ধ্বে থেকে অপকর্ম করে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান নিষ্ঠুর। পুলিশের লক্ষ্য হচ্ছে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শূন্য সহিষ্ণুতা। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের মধ্যে যদি কোনো মাদকসেবী থাকে তা হলে তাকে বাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। চাঁদাবাজিতে সংশ্লিষ্টতা পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘আওয়ামী-পুলিশ’ বা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যরা এখন বাহিনীতে ভোল পাল্টে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বের ন্যায় বর্তমানেও তারা নানান অপরাধী কর্মকা-ে জড়িত হচ্ছেন, এমন অভিযোগ বা গোয়েন্দ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের পোশাক পরেই তারা করছেন এসব অপকর্ম। নানা রকম পেশাদার অপরাধীর মতোই মাদক কারবার, চাঁদাবাজি করছেন। যানবাহন থামিয়ে ‘বখশিশ’ নিচ্ছেন। গণমাধ্যমের কল্যাণে কিছু কিছু ঘটনা জানাজানি হলেও বাকিরা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের অনিয়ম বা অপরাধ কর্মকা- নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও বাহিনীর একশ্রেণির সদস্য তা মানছেন না।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে মোটিভেশনাল অ্যাকটিভিটিস এবং ডিসিপ্লিন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পুলিশের শীর্ষ কর্তারা শুরুতে ‘ব্রুটালিটি’ বা নিষ্ঠুরতা চায় না। এরপরও বাহিনীতে শৃঙ্খলা না ফিরলে কঠোরতার কথা বলা হচ্ছে। দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও তথ্য পাচারে যুক্ত সদস্যদের জন্য শূন্য সহিষ্ণুতা বাস্তবায়ন করতে চায় সদর দপ্তর। চলতি জুলাই মাসের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা না কমলে কঠোর হবে বাহিনী বা সরকার। আইজিপি অধীনস্তদের জানাচ্ছেন, পুলিশের কাছে অসংখ্য আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। তা হলে কেন পেশিশক্তি ব্যবহার করতে হবে। মাথা, বিবেক ও আইনের শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। রাষ্ট্র পুলিশকে অসংখ্য আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে।
জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার কারণে পুলিশের শীর্ষ কর্তাসহ ৯৫২ জনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা আছে। এর মধ্যে অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবু থামছে না পুলিশের অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি-মাদক কারবার। মামলাবাণিজ্যেও জড়াচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। দেশ ও দেশের মানুষের পুলিশের প্রকৃত সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত রদবদল করা হচ্ছে, সঙ্গে শুদ্ধি অভিযানও চালাবে সরকার। যেসব পুলিশ সদস্য দুর্নীতি বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আপডেট তালিকা করা হচ্ছে। এর বাইরে আইজিপি কমপ্লেইন সেলে আসা অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের জের ধরে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা সামাল দিয়ে উঠলেও পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি কার্যকর করা গেছে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে বারবার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলন চলার সময় অনেক থানায় হামলা করে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে, সেগুলোর সব এখনো উদ্ধার করা যায়নি। লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পেশাদার সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে বলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগে থেকে পুলিশে অভ্যন্তরীণ মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর তা শিথিল হয়েছিল। এখন সরকার থেকে যে নতুন করে মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তভাবে করা হচ্ছে সেটা খুবই ভালো উদ্যোগ। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে এই ধরনের মনিটরিং থাকা খুবই জরুরি। পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঊর্ধ্বতনরা যে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন সেটা আগেই শুরু করা দরকার ছিল। সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত মনিটরিং করলে বাহিনীতে দ্রুতই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও পুলিশে তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। পুলিশের নানা অপরাধমূলক কর্মকা- প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণমাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহিনীর নেতিবাচক তথ্য দিয়ে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। এতে পুলিশের নীতিবান সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়ছে। ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর, এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পর্যন্ত বড় পরিসরে রদবদল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। সম্প্রতি সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুরোপুরি ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনী সক্রিয় ও কার্যকর হয়ে উঠবেÑ এটা জনগণের প্রত্যাশা ছিল। আমরা মনে করি সরকারের চার মাসেই তারা সেই সক্রিয় অবস্থানে আসতে পেরেছে। তারা এখন আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং সে কারণে মানুষের মধ্যেও পুলিশকে নিয়ে আস্থা ফিরে এসেছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর পুলিশের মোটিভেশন এবং কাজ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ যথাযথ সক্ষমতা অর্জন করে কাজ করছে। সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশে যে বিশৃঙ্খলা ছিল তা অনেকাংশে সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুতই পুলিশ স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে। ফোর্সের ডিসিপ্লিনের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় বা শৈথিল্য দেখানো যাবে না।
চব্বিশের পটপরিবর্তনের পরও আইজিপি কমপ্লেইন সেলে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসছে। আগে বছরে ২০ হাজার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। বর্তমানে সব অভিযোগ আমলে নিয়ে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তাছাড়া যেসব পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য দুর্নীতিতে জড়িত আছেন, তাদের বিষয়ে দুদক সহযোগিতা চাইলে, তাদের সব ধরনের সহায়তাও করবে বলে জানা গেছে। আইন অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা অপরাধমূলক কাজে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু ও গুরু) বিধান আছে। গুরুদ-ের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও চাকরিকালীন সুযোগ-সুবিধা রহিত করা হয়। অপরাধ প্রমাণ হলে বরখাস্ত করা হয়। গুরুদ-ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অপারেশনাল ইউনিট থেকে পুলিশ লাইনস বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদ- দেওয়া হয়। বিসিএস ক্যাডারের পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে একটি সেল রয়েছে। অভিযোগ আসার পরপরই তদন্ত শুরু হয়।

