টানা বৃষ্টিতে গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনও রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে ছিল। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন। পাশাপাশি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিতে ভোগান্তি বাড়ে কাজের জন্য পথে বের হওয়া মানুষের। গত ২৭ ঘণ্টায় রাজধানীতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে।
এদিকে তীব্র জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ পলিথিন, উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনর (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম দাবি করেছেন পলিথিনের ব্যবহার কমানো না গেলে জলাবদ্ধতা ঠেকানো কঠিন ।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে অনেক এলাকায় গাড়ির গতি কমে যায়। এতে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে।
দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় ঢাকার অধিকাংশ এলাকা। মিরপুর, ধানমন্ডি, মতিঝিল কিংবা নিউমার্কেটÑ সবখানেই একই চিত্র। রাস্তা, অলিগলি, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা দোকানপাট তলিয়ে দুর্ভোগ-ভোগান্তিতে দিশাহারা সবাই। তবে এই সমস্যা সমাধানে বছরের পর বছর বাজেট বাড়িয়ে যাচ্ছে দুই সিটি করপোরেশন।
এদিকে বৃষ্টির পানিতে রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া যান চলাচলসংক্রান্ত সতর্কবার্তায় বলা হয়, বনানী কবরস্থানের পর ঢাকা গেটের কাছে সড়কের উভয় পাশের অংশে পানি জমেছে। এতে যান চলাচলের গতি কম। জলাবদ্ধতার কারণে বনানী-কাকলী উড়ালসড়কের প্রবেশপথেও যান চলাচল ধীর হয়। পাশাপাশি যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এবং ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইনের কাজের কারণে ওই এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। ক্যান্টনমেন্ট গার্লস স্কুলের সামনে ইসিবি এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে মিরপুর ডিওএইচএস ও কালশী থেকে মাটিকাটা উড়ালসড়কের দিকে চলাচলকারী যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়। বৃষ্টির কারণে যান চলাচলে আরও বিঘœ ঘটতে পারে উল্লেখ করে ট্রাফিক বিভাগ চালকদের সম্ভব হলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার এবং অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেন।
গতকালের পূর্বাভাস অনুসারে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। ভারি বর্ষণে ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ভারি ও একই সময়ে ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে অতি ভারি বর্ষণ বিবেচনা করা হয়।
এর আগে গত রোববার সকাল ৬টা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৬টা পর্যন্ত) রেকর্ড হয়েছে ৯৭ মিলিমিটার। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় রয়েছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা এবং দেশের কয়েকটি বিভাগে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও মধ্যরাত থেকে গতকাল ৬টা পর্যন্ত মাত্র ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল ৭টার পর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে এবং থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে ঢাকায় জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ পলিথিন, এর ব্যবহার কমানো না গেলে জলাবদ্ধতা ঠেকানো কঠিন বলে মনে করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনর (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম। ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘জলজট হওয়া সব এলাকায় পানি চলাচলের রাস্তায় পলিথিন জমে ছিল। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা বিপুল পরিমাণ পলিথিন সংগ্রহ করেছেন’। তাই পলিথিন বন্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার জলাবদ্ধতা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। ঢাকার খালগুলোকে পুনরায় আগের অবস্থায় ফেরানো গেলে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ঢাকার পানি বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যায় নেওয়া গেলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে’।

