নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন ঘিরে নানা চ্যালেঞ্জ দেখছে খোদ নির্বাচন কমিশনই। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজনিত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির। আর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। এসব চ্যালেঞ্জ সামনে রেখেই নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল শুক্রবার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কোর প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।
পেশাদারি ও নিরপেক্ষতাকে নির্বাচন কমিশনের বটম লাইন বলে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ কখনো নৈতিকতার বিকল্প হতে পারে না।
প্রশিক্ষণার্থীদের সতর্ক করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, যোগাযোগ ভেঙে পড়া মানেই সব কিছু ভেঙে পড়া। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় বার্তা যেন সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেদিকে মনোযোগী হতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে যে অর্থ ব্যয় করা হয়, সেটিকে ব্যয় নয়; বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। আপনি যখন স্বাস্থ্য বা শিক্ষায় টাকা খরচ করেন, আসলে সেটি বিনিয়োগ। একইভাবে প্রশিক্ষণে ব্যয়ও একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
যোগাযোগ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া এক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেখানে এক ছোট বার্তা কয়েক ধাপ পেরিয়ে পৌঁছাতে গিয়ে বিকৃত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনেও একই ঝুঁকি থাকে। তাই মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং সঠিকভাবে নোট নিতে হবে। পেছনের সারিতে বসা প্রশিক্ষণার্থীরা প্রায়ই ঝিমায়। এতে যোগাযোগ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।
সিইসি বলেন, নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ তো আছেই, এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াজনিত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন আলাদা সেল গঠন করবে।
এ সময় প্রশিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন-কানুন শেখানোর পাশাপাশি ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের দায়িত্বও নিতে হবে এবং এ বার্তা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দিতে হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কমিশনের প্রধান দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। এর বিকল্প কোনো পথ নেই।’
তিনি বলেন, ‘জীবন চলে যেতে পারে কিন্তু নির্বাচনে ফাঁকিবাজি, ধোঁকাবাজি করা যাবে না। কমিশন ও মাঠপর্যায়ের সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।’
ইসি জানান, নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি বা ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি’ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কমিশন হোঁচট খাচ্ছে। তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি গোপনীয়তা রক্ষা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কমিশনের মর্যাদা অক্ষুণœ রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘ভালো নির্বাচন ছাড়া আমাদের সামনে দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। এ নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে প্রিজাইডিং অফিসার। তাদের শক্তিশালী ও দক্ষ করে তুলতে পারলেই একটি সুন্দর নির্বাচন সম্ভব হবে।’
প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সব সমস্যার একটি তালিকা তৈরি করে সমাধানের পথ নির্ধারণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি একজন প্রিজাইডিং অফিসার সাহসী ও সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে একটি ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।’