গণ অধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটার ঘটনায় লাল গেজ্ঞি পরা ভাইরাল হওয়া ওই যুবক রাজধানীর পল্টন থানার ওসির গাড়িচালক কনস্টেবল মিজানুর রহমান। গতকাল শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানা গেছে। গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও এমনটি দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল মিজানুর রহমান (বিপি নম্বর- ৯৭১৭১৯৭২৪৩) পল্টন থানার গাড়িচালক। তিনি বর্তমানে থানার ওসি নাসিরুল আমীনের গাড়ি চালান। ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার অবস্থান শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল চলার সময় গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার লাঠিচার্জে মারাত্মকভাবে আহত হন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লাল রঙের টি শার্ট পরা এক যুবক নুরুল হক নুরসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করছেন। তবে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেছেন, ভিডিওতে যাকে মারধর করা হয়েছে, তা নুরুল হক নুর নয়, তিনি ছাত্রনেতা সম্রাট। এই হামলার বৈধতা দেওয়া উচিত নয়।
রাশেদ খান গতকাল বিকেলে আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনী তাদের কার্যালয়ে ঢুকে এবং বাথরুম ভেঙে অসংখ্য নেতাকর্মীকে রক্তাক্ত করেছে’। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর লাল গেঞ্জি পরা যুবককে শনাক্তে কাজ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার পর নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন ওই যুবক।
রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মীর আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভিডিওতে দেখা ওই ব্যক্তি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা একসময় আটক হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা দ্রুত তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।’ অন্যদিকে গুঞ্জন ছিল ওই যুবক ডিবিতে কর্মরত ছিলেন। তবে ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওই যুবক ডিবির কেউ না। তবে সম্রাটকে মারধর করা কনস্টেবল মিজানুর রহমান এখন কোথায় জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে পল্টন থানার ওসির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।