নীতিমালার অস্পষ্টতা, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গাফিলতি, তদারকির অভাব এবং বিজ্ঞাপন স্বত্বাধিকারীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারণে এলইডি সাইন (ডিজিটাল বিজ্ঞাপন) পরিচালনা থেকে বছরে শতকোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
এলইডি বিজ্ঞাপনের অনুমোদন হার বেশি হওয়া এবং নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো এলইডি সাইনের স্বত্বাধিকারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেও বিপুল পরিমাণের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চসিক। শুধু চসিকই নয়, নীতিমালা অনুযায়ী এলইডি সাইন ফি আদায় করতে না পারার কারণে বছরে কয়েক লাখ টাকা ‘ভ্যাট’ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় বছরের পর বছর এসব এলইডি সাইন বিলবোর্ড চলমান থাকলেও চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করেন।
যদিও এই প্রতিবেদককে চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, নগরীতে চলমান সব এলইডি সাইনই অবৈধ। অবৈধ এলইডি বিজ্ঞাপনি বোর্ড বছরের পর বছর কীভাবে চলছে? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি চসিকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে চসিকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, কে-কোথায় বিলবোর্ড লাগাচ্ছে কিংবা এলইডি সাইন চালাচ্ছেন এসব বিষয় জোনাল রাজস্ব কর্মকর্তাদের দেখার কথা। অথচ তারাই চোখ বন্ধ করে থাকেন!
চসিক সূত্রে জানা গেছে, এলইডি স্ক্রিনে চলমান এলইডি সাইন ফি হার ব্যক্তিগত জায়গা ও স্থাপনা হলে বছরে প্রতি বর্গফুট ১০ হাজার টাকা। আর চসিকের জায়গায় কেউ এলইডি সাইন বসাতে চাইলে তাকে বছরে ফি দিতে হয় প্রতি বর্গফুট ২০ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের (১০০ ফুট) একটি এলইডি সাইন চালাতে চান তাহলে অনুমোদনের জন্য প্রতি বছর চসিককে ফি দিতে হবে ব্যক্তিগত জায়গা ও স্থাপনার জন্য ১০ লাখ টাকা এবং চসিকের জায়গায় হলে বছরে ফি দিতে হবে ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সরকার নির্ধারিত এসব নীতি মানেননি চসিকের সাবেক কোনো মেয়র। বরং অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারাই বিজ্ঞাপনি স্বত্বাধিকারীদের বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। চসিকের নীতিমালা অনুযায়ী যে বিলবোর্ড-এলইডি সাইনের বার্ষিক ফি আসার কথা দেড় কোটি টাকার উপরে, ‘আলোচনা সাপেক্ষে’ সে বিলবোর্ড-এলইডি সাইনের বার্ষিক ফি নির্ধারণ করে দিয়েছেন ২০, ২২ ও ৩০ লাখ টাকা।
দুদকের সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি নীতিমালায় উল্লেখিত এবং নির্ধারিত ফি কমানো কিংবা পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই। যারা এই কাজটি করেছেন তারা সুবিধাভোগীদের অনৈতিক সুবিধা দিতে এই কাজটি করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যদি বিশেষ সুবিধা নাই নিত তাহলে বছরের পর বছর এসব অবৈধ এলইডি সাইন চলে কি করে।
চসিকের বিজ্ঞাপন নীতিমালা অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে ছায়া প্রতিবিম্ব হয় (টিভি) সে পদ্ধতিতে যেকোনো পণ্যের প্রচার করতে নির্ধারিত ফি দিয়ে চসিকের ডিজিটাল নীতিমালায় চুক্তি স্বাক্ষরসহ অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। চসিকের বিজ্ঞাপনি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চসিকের নীতিমালায় পড়ে এমন বেশ কয়েকটি এলইডি বিজ্ঞাপন বোর্ড চলমান।
তার মধ্যে রয়েছে জিইসি সেন্ট্রাল প্লাজার রূপটপ এবং মার্কেটের সম্মুখভাগ, জিইসি থেকে জাকির হোসেন রোডমুখি র্যাংগস লিমিটেডের শো রুম, গোলপাহাড় মোড়ের স্বপ্ন সুপারশপ বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বিডি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের এলইডি সাইন, খুলশী আবাসিক রোডস্থ আইকনিক শো রুম, খুলশী মার্কেটের হারমাইন শপ এবং খুশলী মার্টের পাশের ভবন। এর বাইরে নগরীর আগ্রাবাদ, নিউমার্কেট মোড় ও রেয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজারসহ নগরীর বেশ কয়েকটি সুপার মার্কেটে নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে এসব বিজ্ঞাপনি এলইডি। এর সাথে রয়েছে নগরীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টিভি স্ক্রিনের মাধ্যমে নিয়মিত চালানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রচার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর জিইসি মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার বিলবোর্ডগুলো একসময় নিয়ন্ত্রণ করতেন চসিকের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ফরিদ আহমদ। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর ২০১৭ সালের দিকে জিইসিকেন্দ্রিক বিলবোর্ড নিয়ন্ত্রণ নেন অ্যাডফ্রেমের স্বত্বাধিকারী যুবলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু এবং হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর। দুজনই আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী এবং এমইএস কলেজকেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতির আধিপত্য বিস্তারে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, সেন্ট্রাল প্লাজার সপ্তম তলার অ্যাডফ্রেমের এই কার্যালয় থেকে জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন যুবলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু ও তার অনুসারীরা। ইতোমধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কয়েকটি মামলাও হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় হওয়া এক মামলার ৫ নম্বর আসামি আরশেদুল আলম বাচ্চু এবং ২২ নম্বর আসামি হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর। যদিও যুবলীগ নেতা হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর নিজেকে এখন হেফাজতের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।
অ্যাডফ্রেমের স্বত্বাধিকারী যুবলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু ও হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর বছরের পর বছর আওয়ামী রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বিলবোর্ড থেকে শত শত কোটি টাকা ব্যবসা করলেও তার সিঁকি ভাগও জমা দেননি চসিক ও সরকারি রাজস্ব খাতে। শুধু তাই নয়, করপোরেশনের বকেয়া পরিশোধের জন্য বার বার আদেশ জারির পরও সে আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে যুবলীগের এই প্রভাবশালী নেতা। গণঅভুত্থ্যানের পর আরশেদুল আলম বাচ্চু আত্মগোপনে যাওয়ার পর একক স্বত্বাধিকারী হিসেবে অ্যাডফ্রেম পরিচালনার দায়িত্ব নেন হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর।
অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্রে হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর নিজেকে একক মালিক হিসেবে দাবি করলেও অ্যাডফ্রেম থেকে আয় হওয়া সিংহভাগ লভ্যাংশ গোপনে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতের কলকাতায় অবস্থানরত যুবলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চুর কাছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. শাহাদাত হোসেন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেন্ট্রাল প্লাজার এসব এলইডি সাইন ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে চলতি বছর ১৮ মে অফিযান চালায় চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে অংশ নেওয়া চসিকের ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা সে সময় জানিয়েছিলেন, বারবার নোটিশ দেওয়ার পর এসব বিলবোর্ড সরিয়ে না নেওয়ার কারণে আমরা উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছি। তিনি আরও বলেন, চসিকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে মামলা করা হয়েছিল সেটির সমাধান হয়ে গেছে।
এ ছাড়া অ্যাডফ্রেমের কাছে বেশকিছু রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। বকেয়া আদায়ে তাদের বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা বকেয়া পরিশোধ করেনি। যে কারণে এই অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কোনো এক অলৌকিক কারণে উচ্ছেদের মধ্যভাগে অভিযান সমাপ্ত করেন চসিকের সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
উচ্ছেদ শেষ না করে অভিযান সমাপ্তি ঘোষণার কারণ জানতে চাইলে সে সময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, উনারা (অ্যাডফ্রেমের স্বত্বাধিকার) নিজের বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে নেবেন। বিলবোর্ড সরানোর জন্য তাদের এক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। যদিও গত তিন মাসে বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে নেয়নি অ্যাডফ্রেমের স্বত্বাধিকারীরা। এলইডি সাইনগুলোতে প্রচার হচ্ছে দৃশ্যমান বিজ্ঞাপন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেন্ট্রাল প্লাজার সম্মুখভাগ ও ছাদে দুটি এলইডি বিলবোর্ড রয়েছে অ্যাডফ্রেমের। তারমধ্যে একটি সাইজ ৫২৫ বর্গফুট এবং অপরটি ৪৫০ বর্গফুট। এলইডি বিজ্ঞাপনি দুটি বোর্ডসহ আরও কয়েকটি বিল বোর্ড থেকে বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা চসিকের। চসিকের বিজ্ঞাপনি নীতিমালা অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত ৫ বছরে অ্যাডফ্রেমের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা চসিকের। ভ্যাট হিসেবে সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হওয়ার কথা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সূত্র এবং তথ্য বলছে, গত ৫ বছরের অ্যাডফ্রেমের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকাও রাজস্ব পায়নি চসিক।
গণঅভ্যুত্থানের পর যুবলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু আত্মগোপনে যাওয়ার কারণে মুঠোফোনে কল করে পাওয়া যায়নি তাকে। তবে অ্যাডফ্রেমের অপর স্বত্বাধিকারী হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর কাছ থেকে চসিকের অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য চাইলে এই প্রতিবেদককে দেখাতে পারেননি।
তিনি বলেন, সেন্ট্রাল প্লাজায় থাকা এলইডি সাইনগুলো আমরা ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বসিয়েছি। এক বছরে চসিককে ২২ লাখ টাকা রাজস্ব ফি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে অনুসন্ধান বলছে ‘গা বাঁচাতে’ এই প্রতিবেদককে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন হাফিজ উল্লাহ আমির তিমুর। সেন্ট্রাল প্লাজায় বসানো এলইডি সাইনগুলো ২০২১ সাল থেকে চলমান। ২০২১-২২, ২০২২-২৩ সালে চসিকের রাজস্ব বিভাগের বকেয়া পরিশোধের দুটি নোটিশ এই প্রতিবেদক সংগ্রহ করেছেন যার মধ্যে ২০২১ কিংবা তারও আগে থেকে এলইডি সাইন চলমানের বিষয়টি প্রমাণিত।
একই স্থানে জিইসি কনভেনশন সেন্টারের পাশে আউটলেট তৈরি করে র্যাংগস লিমিটেড। যেখানে ইলেক্ট্রনিক পণ্যসহ মোটরসাইকেল, গাড়ি বিক্রির জন্য আলাদা আলাদাভাবে ৫টা শো রুম করা হয়। পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য প্রত্যেকটা শো রুমের তিন পাশে অত্যাধুনিক ডিজাইনে এলইডি স্ক্রিণ বসায় র্যাংগস ইমার্ট। র্যাংগসের ৫টা শো রুমে বিজ্ঞাপনি প্রচারের জন্য লাগানো এলইডি স্ক্রিণের পরিমাণ ২ হাজার বর্গফুটেরও বেশি। চসিকের বিজ্ঞাপনি নীতিমালায় প্রতি বর্গফুট ১০ হাজার টাকা করে ২ হাজার বর্গফুটের জন্য প্রতি বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ২০ কোটি টাকা রাজস্ব এবং ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে ৩০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা র্যাংগস লিমিটেডের। গত ৩ বছরে র্যাংগস লিমিটেড এসব শোরুমে পণ্য প্রচারের জন্য চসিকে রাজস্ব খাতে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি জমা দেওয়ার বিধান থাকলে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক কানাকড়িও প্রদান করেনি র্যাংগস লিমিটেড। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত চসিক থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি দেশের বৃহত্তর এই শিল্পগ্রুপ।
জানা গেছে, কয়েক ধাপে ৮৯০ বর্গফুট এলইডি স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে চলতি বছর প্রায় ৯১ লাখ টাকা রাজস্ব প্রদানের জন্য রাংগস গ্রুপকে নোটিশ পাঠিয়েছে চসিকের রাজস্ব বিভাগ। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পরও ৯১ লাখ টাকা রাজস্ব দিতেও নারাজ এই শিল্পগ্রুপ।
অভিযোগ রয়েছে, চসিকের বিজ্ঞাপনি নীতিমালাকে পাস কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ প্রচার দাবি করে রাজস্ব দাবির নোটিশকে অযৌক্তিক বলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে বোঝানোর চেষ্টা করছে একটি চক্র।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, র্যাংগস লিমিটেডের এলইডি স্ক্রিনে প্রচারিত পণ্য বিজ্ঞাপনের রাজস্ব ফি যদি মওকুফ করা হয় কিংবা রাজস্ব দাবির নোটিশ প্রত্যাহার করা হয় তাহলে চসিকের বিজ্ঞাপনি নীতিমালা প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে যে কেউ নিজ ভবন কিংবা মার্কেটের বাইরে গ্লাস দিয়ে র্যাংগস লিমিডেটের মতো পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চাইলে রাজস্ব আদায়ে জটিলতায় পড়তে হবে চসিককে। সেক্ষেত্রে হঠকারী এই সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে সরকার।
এ ছাড়া নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে স্বপ্ন সুপার শপের তৃতীয় তলায় ৪৫০ বর্গফুটের এলইডি ডিজিটাল সাইনবোর্ড স্থাপন করে বিডি মার্কেটিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এলইডি সাইনবোর্ড বসানোর জন্য চসিকের কাছে আবেদন করা হলেও ফি পরিশোধ না করায় এই প্রতিষ্ঠানটির সাথেও এখনো কোনো চুক্তি সম্পাদন করেনি চসিক।
র্যাংগস লিমিডেটের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে শোরুমের কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বলেন, এসব বিষয় ঢাকা থেকে তদারকি করা হয়। আমরা কিছু জানি না।
এলইডি সাইন অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, অ্যাডফ্রেম ও রাংগস লিমিটেডের এলইডি সাইনের বিষয়গুলো নিয়ে তাদের সাথে আলাপ চলছে। ইতোমধ্যে মেয়র এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন।