× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মির্জা হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:১৮ এএম

অস্ট্রিয়া বধের নীলনকশা

মির্জা হাসান মাহমুদ

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০১:১৮ এএম

অস্ট্রিয়া বধের নীলনকশা

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মাতোয়ারা গোটা বিশ্ব। সবুজ গালিচায় যখন ফুটবলবিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই অবতীর্ণ হয়, তখন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদস্পন্দনও যেন বাঁধা পড়ে অদ্ভুত ছন্দে। এবারের বিশ্বমঞ্চেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে অধিনায়ক লিওনেল মেসির অতিমানবীয় জাদুকরী হ্যাটট্রিকে রাজকীয় জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেরা সেই মহাকাব্যিক সূচনার রেশ কাটতে না কাটতেই দরজায় কড়া নাড়ছে আরেকটি পরীক্ষা। আগামীকাল গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ইউরোপীয় দল অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি। প্রথম ম্যাচের জয় যেখানে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি জুগিয়েছে, সেখানে আগামীকালের ম্যাচটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার ট্যাকটিক্যাল পরীক্ষা।

প্রথম ম্যাচের আবহ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই অদৃশ্য মনস্তাত্ত্বিক চাপের দেয়াল তৈরি করে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই চাপকে জয় করে যেভাবে আর্জেন্টিনা মাঠ কাঁপিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ করে লিওনেল মেসির পায়ে যে চিরযৌবনা রূপ ফুটবলবিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে, তা এক কথায় অনবদ্য। প্রথম ম্যাচের সেই বিশাল জয় আর্জেন্টিনা শিবিরকে এক প্রকার স্বস্তি দিলেও, টুর্নামেন্টের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় গা ভাসিয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে, আলজেরিয়া ম্যাচের জয়টি কোচ লিওনেল স্কালোনিকে তার দলের শক্তি এবং দুর্বলতার জায়গাগুলো নতুন করে পরখ করার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচের স্মৃতি এখন অতীত; তবে সেই ম্যাচের ইতিবাচক দিক, যেমন মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত আক্রমণভাগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন; আগামীকালের ম্যাচেও আর্জেন্টিনার প্রধান হাতিয়ার হতে যাচ্ছে। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই একেকটি নতুন যুদ্ধ, আর সেই যুদ্ধের রসদ জোগাতে প্রথম ম্যাচের মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা আর্জেন্টিনার জন্য এক পরম পাওয়া।

অস্ট্রিয়া আতঙ্ক

আগামীকালের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া কোনো সাধারণ প্রতিপক্ষ নয়। ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে তারা প্রমাণ করেছে যে, নিখুঁত শারীরিক ফুটবল ও হাই-প্রেসিং রণকৌশলে তারা কতটা পারদর্শী। আলজেরিয়ার ফুটবলশৈলী যেখানে ছিল মূলত কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর, সেখানে অস্ট্রিয়ার ফুটবল অনেক বেশি সুশৃঙ্খল এবং দলগত ভাবনায় সমৃদ্ধ। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ অত্যন্ত নিটোল এবং দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের উপস্থিতির কারণে হেডিংয়ের লড়াইয়ে তারা সবসময়ই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। একই সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে খেলা দ্রুত উইংয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আর্জেন্টিনা রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। রালফ রাংনিকের ঘরানার আধুনিক ফুটবল দর্শনে দীক্ষিত এই অস্ট্রিয়া দল ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই হাইলাইন প্রেসিং করবে, যা আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক বিল্ড-আপ ফুটবলকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট। তাই এই ইউরোপীয় প্রাচীর ভাঙতে আর্জেন্টিনাকে কেবল প্রতিভার ওপর ভর করলে চলবে না, প্রয়োজন হবে নিখুঁত গাণিতিক কৌশলের।

স্কালোনির দাবার বোর্ড

প্রথম ম্যাচের জয়ের পর আর্জেন্টিনা

শিবিরে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকলেও অস্ট্রিয়ার খেলার ধরন বিবেচনা করে স্কালোনি তার রণকৌশলে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন। ৪-৩-৩ ফরমেশন ধরে রাখলেও মাঝমাঠের তিন সেনানি,

রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ওপর দায়িত্ব থাকবে দ্বিগুণ। অস্ট্রিয়ার প্রেসিং ফুটবলকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে বল ফরোয়ার্ড লাইনে সাপ্লাই দেওয়া যায়, তার ওপরই নির্ভর

করছে ম্যাচের ভাগ্য। পাশাপাশি, রক্ষণভাগকে আগামীকাল অনেক বেশি সজাগ থাকতে হবে। অস্ট্রিয়ার গতিময় উইঙ্গাররা যদি কাউন্টার-অ্যাটাকে স্পেস পেয়ে যায়, তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পরীক্ষা নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে না। স্কালোনির দাবার বোর্ডে তাই আগামীকালের মূলমন্ত্র হতে যাচ্ছে, গতিশীল উইং-প্লে এবং ট্রানজিশন পিরিয়ডে দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসার ভারসাম্য রক্ষা করা। নিকোলাস গঞ্জালেস বা হুলিয়ান আলভারেজদের ডিফেন্সিভ কন্ট্রিবিউশনও এই ম্যাচে সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্মিলিত শক্তির আবাহন

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক ভক্তদের রোমাঞ্চিত করলেও, এটি একটি চিরন্তন সত্যকে পুনরায় সামনে এনেছে, আর্জেন্টিনা কি এখনো অতিরিক্ত মাত্রায় মেসি-নির্ভর? ফুটবল ইতিহাস সাক্ষী, একক কোনো ফুটবলারের ওপর ভর করে বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্ট জেতা অসম্ভব। মেসি নিশ্চিতভাবেই দলের নিউক্লিয়াস এবং তার এক মুহূর্তের জাদু ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে; কিন্তু অস্ট্রিয়ার মতো নিটোল ডিফেন্সের বিপক্ষে মেসিকে বোতলবন্দি করার জন্য প্রতিপক্ষ ছক কষবেই। এখানেই লউতারো মার্টিনেজ কিংবা এনজো ফার্নান্দেজদের মতো তরুণ তুর্কিদের এগিয়ে আসতে হবে। মেসি যখন প্রতিপক্ষের তিন-চারজন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নেবেন, তখন যে শূন্যস্থানের সৃষ্টি হবে, তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে বাকি ফরোয়ার্ডদের। আক্রমণভাগের এই বৈচিত্র্যই অস্ট্রিয়ার ডিফেন্সকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দেবে। সম্মিলিত এই শক্তির প্রদর্শনই পারে আর্জেন্টিনাকে একক নির্ভরতার বৃত্ত থেকে বের করে এক অপরাজেয় দলে রূপান্তর করতে।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

ফুটবল কেবল পা আর বলের খেলা নয়, এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুরও যুদ্ধ। প্রথম ম্যাচের জয় আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে যে স্বস্তির সুবাতাস এনে দিয়েছে, তা ধরে রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যেন কোনোভাবেই দলের খেলায় শৈথিল্য না আনে, সে বিষয়ে স্কালোনি নিশ্চয়ই তার শিষ্যদের সতর্ক করেছেন। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে প্রতিটি পয়েন্ট সোনার চেয়েও মূল্যবান। আগামীকাল অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারলে নকআউট পর্বের রাস্তা যেমন সুগম হবে, তেমনি টুর্নামেন্টের ফেভারিট হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারবে আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে, অস্ট্রিয়া মাঠে নামবে হারানোর কিছু না থাকার মানসিকতা নিয়ে, যা তাদের আরও বেশি বিপজ্জনক করে তোলে। বিশ্বজয়ের দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ সোপানে এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য একটি অ্যাসিড টেস্ট। লাতিন ফুটবলের ছন্দ আর ইউরোপীয় ফুটবলের যান্ত্রিক শৃঙ্খলার এই মহাদ্বৈরথে যার স্নায়ু যত বেশি ঠান্ডা থাকবে, শেষ হাসি তারাই হাসবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!