× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০২:৩৬ এএম

বেড়েই চলেছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০২:৩৬ এএম

বেড়েই চলেছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, তখন গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন কিংবা নতুন বাজেটে কাঁচামাল আমদানিতে বড় অঙ্কের করছাড়ের ঘোষণাÑ কোনো কিছুই যেন স্বস্তি ফেরাতে পারছে না ওষুধের বাজারে। ক্যানসার প্রতিরোধীসহ বহু জরুরি ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, ফলে বাধ্য হয়ে নিত্যদিনের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দুর্বল বাজার তদারকি এবং উৎপাদনকারী ও বিক্রেতাদের একচেটিয়া মুনাফার খেসারত দিতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থে নিঃস্ব হচ্ছেন দেশের লাখ লাখ রোগী।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, একচেটিয়া বাজারব্যবস্থাসহ নানা কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের শেষ সময়ে বেশ বিতর্কিত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ওই সরকারের প্রতি মানুষের মনকে বিষিয়ে তুলেছিল। জরুরি ওষুধের ঊর্ধ্বমুখী দামে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্য খাতের দশা আরও বেহাল হয়ে পড়ে। সে সময় স্বাস্থ্য খাতের একটি অপারেশন প্ল্যানও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। এমনকি দেওয়া হয়নি শিশুদের জরুরি টিকাও। ফলে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যারা বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, তাদের এখনো জরুরি ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে।

২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ওষুধশিল্পকে আরও স্বাবলম্বী করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাজেটে বিশাল কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের নতুন উপকরণ এবং ওষুধ তৈরির মূল উপাদান এপিআইসহ মোট ৭৭টি নতুন মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পকে স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তুলতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার প্রজ্ঞাপনে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে আরও ৯টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওষুধশিল্পের অধিকতর প্রসারকল্পে স্থানীয়ভাবে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে দেশি ওষুধের রপ্তানি ধরে রাখতে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শুল্কমুক্ত (শূন্য শতাংশ) সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকাবে ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের উদ্যোক্তারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ফলে দেশে ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের মতো জীবন রক্ষাকারী ওষুধের উৎপাদন খরচ কমবে, যার সুফল পাবেন সাধারণ রোগীরা। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল বা এপিআই উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

কিন্তু বাস্তবে বাজারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সময় যেভাবে বেড়েছিল ওষুধের দাম, তা আর কমেনি। সম্প্রতি হাম-ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে অব্যাহত রয়েছে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত নাপা, সেকলো, অমিডন, মন্টেয়ার-মোনাস, এমকাস, রিভার্সএয়ারের মতো ওষুধগুলোর দাম বেড়েছে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই। ২০ টাকার নাপা সিরাপ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। ৪৫ টাকা পাতার সেকলো কিনতে দিতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এদিকে আমদানি করলেও এখনো ফার্মেসিগুলোতে কাটেনি ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্যালাইনের (আইভি ফ্লুইড) দাম। এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য জরুরি পণ্যের খরচ কাটছাঁট করে চিকিৎসা খরচ চালাতে হচ্ছে মানুষকে।

তথ্য অনুসারে, মোট ১ হাজার ৬৫০টি জেনেরিকের মধ্যে ২০২৩ সালে সরকার নিয়ন্ত্রিত ১১৭টি ওষুধের মধ্যে ৫৩টি ওষুধের দাম বাড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। সেই দাম বাড়ানোর প্রভাবে জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম যে বেড়েছিল, তা আর কমেনি। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ওষুধের দোকানগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ওষুধেরই দাম বেড়েছে।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকার ওষুধের ফার্মেসিগুলো ঘুরে দেখা যায়, যে ইকোস্প্রিনের পাতা ছিল ৬ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। ইকোস্প্রিন প্রতি ট্যাবলেটের দাম  ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ পয়সা করা হয়েছে। সেই হিসাবে পাতা হওয়া উচিত ৮ টাকা। কিন্তু বিক্রেতারা নিচ্ছেন ১০ থেকে ১৫ টাকা। পাতাপ্রতি বেশি রাখা হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। একইভাবে জ¦রের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্যারাসিটামল (নাপা) ট্যাবলেটের এক পাতার আগের দাম পাইকারি পর্যায়ে ছিল ৭ টাকা। ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি হতো ৮ থেকে ১০ টাকায়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। লোসারটান পটাশিয়াম ৫০ মিলিগ্রামের প্রতি পিসের দাম ৮ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। প্যারাসিটামল ৬৬৫ মিলিগ্রাম ১০ পিস ওষুধের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা হয়েছে। অ্যামলোডিপাইন অ্যাটেনোলোল ৫০০ মিলিগ্রামের দাম ৬ টাকা থেকে ৮ টাকা হয়েছে। ব্রোমাজিপাম ৩ মিলিগ্রামের দাম ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা হয়েছে। অ্যাসপিরিন ৭৫ মিলিগ্রামের দাম ৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৮ টাকা টাকা হয়েছে। মেট্রোনিডাজল ৪০০ মিলিগ্রামের দাম ১ টাকা থেকে হয়েছে ২ টাকা। এই ওষুধের ১০ পিসের দাম ১৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩০ টাকা হয়েছে। ফেক্সোফেনাডিন প্রতি পিস ৮ টাকা থেকে ৯ টাকা হয়েছে। অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতি পিস ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা হয়েছে। মন্টিলুকাস্ট প্রতি পিস ১৬ টাকা থেকে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা হয়েছে। ভিটামিন বি১ বি৬ বি১২-এর প্রতি পিসের দাম ৭ টাকা থেকে দুই ধাপে দাম বেড়ে ১০ টাকা হয়েছে। ইসমিপ্রাজলের প্রতি পিসের দাম ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা হয়েছে।

নাপা সিরাপের বাড়তি দাম রাখার কারণ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগের সেবা ফার্মেসির কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমরা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এই সিরাপ কিনতাম ১৮ টাকায়। ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতাম ২০ টাকায়। কিন্তু আমাদেরই এখন কেনা পড়ছে ৩১ টাকা। ফলে আমরা ৩৫ টাকায় বিক্রি করছি। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।’

একই দাবি করেন অপর ফার্মেসি ব্যবসায়ী শিপন মিয়া। তিনি বলেন, ‘ওষুধের দাম বাড়ায় রোগীদের কষ্টের বিষয়টা সবাই দেখছে। কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরাও যে ধুঁকে ধুঁকে মরছি, সেটা কেউ দেখছে না। আগে যে দামে ওষুধগুলো কোম্পানি থেকে আমরা কিনতাম, কয়েক মাসের ব্যবধানে তা দ্বিগুণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন গুণ হয়ে গেছে। আমাদেরও পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সরকার বাজেটে করছাড়ের কথা বললেও কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কাছে আমরা অসহায়।’

রাজধানীর শাহবাগে সোহাগ ফার্মেসিতে মেয়ে নিশাতের জন্য নাপা সিরাপ কিনতে এসেছিলেন কলাবাগানের বাসিন্দা শাহনাজ বেগম। ওষুধের বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চাল, ডাল, তেল, সবজিÑ সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। যেকোনো কিছুর দাম বাড়লে সেটা খাওয়া কমিয়ে দিই। তেলের দাম বাড়ার পর তেল কেনা কমিয়েছি। কিন্তু ওষুধের প্রয়োজনীয়তা কমাব কীভাবে? শিশুর যদি জ¦র হয়, নাপা সিরাপ খাওয়াতেই হয়। এদিকে বাসায় বয়স্ক মা উচ্চ রক্তচাপের রোগী। নিয়মিত তাকে ওষুধ খেতে হয়। আগে এক পাতা ওষুধ ৮০ টাকায় কিনতাম। এখন সেটা ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আয় একই থাকছে, কিন্তু খরচ বেড়েই চলেছে। বাঁচতে গেলে ওষুধ তো কিনতেই হবে। এ খরচ আমি কীভাবে কমাব?’

এদিকে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ডলারের উচ্চমূল্যকেই দুষলেন ওষুধ শিল্প সমিতির নেতারা। সংগঠনটির নেতা এস এম শফিউজ্জামান বলেন, সরকার কাঁচামাল আমদানিতে করছাড়ের প্রস্তাব করেছে মাত্র। সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। আশা করি বাস্তবায়িত হলে দাম কিছুটা কমবে।’

স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, দেশের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের দাম বাড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে সরকারের হাতে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্যারাসিটামল ৫০০ এমজি ট্যাবলেটের দাম ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ টাকা ২০ পয়সা, প্যারাসিটামল ৫০০ এমজি ট্যাবলেটের (র‌্যাপিড) দাম ৭০ পয়সা থেকে করা হয় ১ টাকা ৩০ পয়সা, প্যারাসিটামল ৬৫০ এমজি ট্যাবলেটের (এক্সআর) দাম ১ টাকা ৩১ পয়সা থেকে করা হয় ২ টাকা, প্যারাসিটামল ১০০০ এমজি ট্যাবলেটের দাম করা হয় ২ টাকা ২৫ পয়সা, যা আগে ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা। একইভাবে প্যারাসিটামল ৮০ এমজি ড্রাপস ১৫ এমএল বোতলের দাম করা হয় ২০ টাকা, যা আগে বিক্রি হতো ১২ টাকা ৮৮ পয়সায়। প্যারাসিটামল ৮০ এমজি ড্রাপস ৩০ এমএল বোতলের দাম হয় ৩০ টাকা, এর আগের দাম ছিল ১৮ টাকা; প্যারাসিটামল ১২০ এমজি/৫ এমএল সাসপেনশন (৬০ এমএল) বোতলের দাম হয়েছে ৩৫ টাকা, আগের দাম ১৮ টাকা; প্যারাসিটামল ১২০ এমজি/৫ এমএল সাসপেনশন ১০০ এমএল বোতলের দাম হয়েছে ৫০ টাকা, আগের দাম ৩০ টাকা ৮ পয়সা; প্যারাসিটামল ১২০ এমজি/৫ এমএল সিরাপ (৬০ এমএল) বোতল দাম ৩৫ টাকা, আগের দাম ১৮ টাকা; প্যারাসিটামল ১২০ এমজি/৫ এমএল সিরাপ (১০০ এমএল) বোতলের দাম করা হয় ৫০ টাকা, আগের দাম ২৭ টাকা ৭২ পয়সা; মেট্রোনিডাজল ২০০ এমজি ট্যাবলেট কোটেড আগের দাম ৬০ পয়সা, বর্তমান দাম ১ টাকা; মেট্রোনিডাজল ২৫০ এমজি ট্যাবলেট কোটেড আগের দাম ৯২ পয়সা, বর্তমান দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা; মেট্রোনিডাজল ৪০০ এমজি ট্যাবলেট কোটেড আগের দাম ১ টাকা ৩৭ পয়সা, বর্তমান দাম ১ টাকা ৭০ পয়সা; মেট্রোনিডাজল ৫০০ এমজি ট্যাবলেট কোটেড আগের দাম ১ টাকা ৬৬ পয়সা, বর্তমান দাম ২ টাকা; মেট্রোনিডাজল ২০০এমজি/৫এমএল সাসপেনশন ৬০ এমএল বোতলের আগের দাম ২৬ টাকা, বর্তমান দাম ৩৫ টাকা; মেট্রোনিডাজল ২০০এমজি/৫এমএল সাসপেনশন ১০০ এমএল বোতলের আগের দাম ৩৪ টাকা ৯২ পয়সা, বর্তমান দাম ৪৫ টাকা।

সরকার নির্ধারিত এই মূল্যতালিকা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এদিকে আওয়ামী সরকারের পতনের পরও বাজারে তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। এমনকি ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেই কোনো কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টিও। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ওষুধ কিনতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর থেকে বের হওয়ার উপায় কী জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ওষুধশিল্পকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন সেটি বাস্তবায়ন সময়ের ব্যাপার। আশা করছি, প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে ওষুধের বাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানের অস্থিরতা আর থাকবে না।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে কয়েকটি ব্র্যান্ডের ওষুধের দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু দাম বাড়লেও কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কিছু কিছু ওষুধের দাম যৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়নি। সরকার অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের চেয়ে অনেকটা বেশি নির্ধারণ করেছে। এর সুবিধা নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। মাঠ পর্যায়ের ফার্মেসিগুলোও অধিক মুনাফার লোভে ৫৩টি ওষুধের বদলে অন্যান্য ওষুধেরও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ জন্য প্রয়োজন কঠোর মনিটরিং টিম, যারা বাজার মনিটর করবে এবং কেউ ওষুধের বাড়তি দাম আদায় করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!