চুল সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে সঠিক উপায়ে এবং নিজের চুলের ধরন বুঝে আঁচড়ানোর মধ্যে। শত বছর ধরে প্রচলিত রাতে ঘুমানোর আগে ১০০ বার চুল আঁচড়ানোর যে গল্প আমরা শুনে আসছি, আধুনিক বিজ্ঞান তাকে সম্পূর্ণ রূপকথা বলে প্রমাণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত আঁচড়ানোর ফলে চুলের ভেতরে ফাটল ধরে এবং আগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। এমনকি বেশি আঁচড়ালেই চুল দ্রুত লম্বা হয়Ñ এই ধারণারও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আসলে চুল কতবার আঁচড়ানো হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কত জোরে আঁচড়ানো হচ্ছে। চুলে অতিরিক্ত জোর বা টান প্রয়োগ করলে চুল সহজেই ভেঙে বা ছিঁড়ে যায়।
যাদের চুল সোজা বা হালকা ঢেউখেলানো, তাদের জন্য দিনে অন্তত এক থেকে দুইবার আঁচড়ানো উপকারী। এতে মাথার ত্বকের মরা চামড়া ও ময়লা দূর হয় এবং ত্বকের প্রাকৃতিক তেল পুরো চুলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ধরনের চুল ভেজা থাকা অবস্থায় কখনোই আঁচড়ানো উচিত নয়। কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের কিউটিকলগুলো নরম ও প্রসারিত থাকে, ফলে চুল খুব দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ছিঁড়ে যায়। শুকনো সোজা চুলের জন্য নরম ব্রিসল দিয়ে তৈরি চিরুণি ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো, যা চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত প্রাকৃতিক তেল পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে কোঁকড়ানো বা স্প্রিংয়ের মতো চুলের ক্ষেত্রে নিয়মটি সম্পূর্ণ উল্টো। এই ধরনের চুল শুকনো অবস্থায় কখনোই আঁচড়ানো উচিত নয়, এতে চুলের ভীষণ ক্ষতি হয়। কোঁকড়ানো চুল কেবল গোসলের সময় ভেজা থাকা অবস্থায় জটমুক্ত করতে হবে। জট ছাড়ানোর সময় কন্ডিশনার বা ডিট্যাঙ্গেলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে চিরুণি বা ব্রাশ চুলে আটকে না গিয়ে সহজে পিছলে যেতে পারে। এই ধরনের চুলের জন্য এবং সোজা চুল ভেজা অবস্থায় আঁচড়ানোর জন্য সবসময় নরম ও নমনীয় প্লাস্টিকের পিনযুক্ত বিশেষ ব্রাশ বা চিরুণি ব্যবহার করা উচিত। চুলে নিয়মিত কিন্তু আলতোভাবে চিরুনি চালানোই চুলকে বড় জট এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষা করার একমাত্র সঠিক উপায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন