প্রতিবার বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা এলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কারণে চাকরি হারানোর আতঙ্ক নতুন করে ডানা মেলে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০ হাজার চাকরিচ্যুতির পেছনে এআই জড়িয়ে ছিল। এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৫ বছরে শুধু আমেরিকারই ১৫% চাকরি গিলে খেতে পারে এই প্রযুক্তি।
তবে সম্প্রতি ‘র?্যাম্প অ্যান্ড রেভেলিও ল্যাবস’ প্রায় ২২ হাজার কোম্পানির ওপর জরিপ চালিয়ে এই ভয়ের সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে। দেখা গেছে, যেসব কোম্পানি এআই প্রযুক্তির পেছনে বড় অঙ্কের টাকা ঢালছে, তারা কর্মী ছাঁটাই তো করছেই না, উল্টো নতুন মানুষ নিয়োগ দিচ্ছে। এমনকি এআই-এর কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শুরুর দিকের পদগুলোতেও কর্মী বাড়ানো হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা যায়, এআই-তে উচ্চ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মী সংখ্যা গড়ে ১০.২% বেড়েছে। মূলত এআই প্রযুক্তি কোডিং বা ডেটা অ্যানালাইসিসের মতো কাজের সময় ও খরচ বহুগুণ কমিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন খরচ কমায় পুরো কোম্পানি বড় করার সুযোগ তৈরি হয়, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
তবে এর একটি অন্ধকার দিকও আছে। যেসব কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ না করে শুধু সস্তা সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পড়ে আছে, তারা কোনো সুফল পাচ্ছে না। ফলে বাজারে এক নতুন করপোরেট বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। দূরদর্শী কোম্পানিগুলো আরও শক্তিশালী হচ্ছে, আর রূপান্তরে অক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই করেও প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ধুঁকছে।

