চালুর পর থেকে গত ২৯ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে আদায় করা টোল থেকে সরকারের কাছে ঋণের ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কোনো কিস্তি বকেয়া নেই। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ^ব্যাংকের কাছে ঋণ সুবিধা চায় আওয়ামী লীগ সরকার। পরে পদ্মা সেতু নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। বিতর্কের মধ্যে ঋণ সুবিধা থেকে বিশ^ব্যাংক সরে যায়। আলোচিত এ ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে ঘটনা অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। তৎকালীন নানা বিতর্কের মধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থে সেতু নির্মাণ করে। যদিও অভিযোগ রয়েছে, পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় বরাদ্দে দুর্নীতি ও অনীয়ম হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর পর থেকে সেতুটি দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বছরে চারটি কিস্তির মাধ্যমে মোট ১৪০ কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া টোল থেকে ভ্যাট বাবদ এখন পর্যন্ত ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

