ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি

 ফাইজা ইসলাম নাহিন
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০২:৩৬ এএম

চলমান বছরে বিশ্বব্যাপী সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট শিল্প এক অভাবনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাবে কাজের ধরন পুরোপুরি বদলে গেছে। বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তির ঢেউ লেগেছে, যেখানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এখন জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

‘এজেন্টিক এআই’-এর বিপ্লব

বর্তমানে সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রে ‘এজেন্টিক এআই’ একটি নতুন মানদ- তৈরি করেছে। ডেভেলপাররা এখন আর কেবল কোড লেখেন না, বরং তারা এআই এজেন্টদের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিচার তৈরি, ডিবাগিং এবং জটিল সিস্টেম আর্কিটেকচার পরিচালনা করছেন। এই প্রযুক্তির ফলে ডেভেলপমেন্টের গতি ও মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেভেলপারদের ভূমিকা এখন ‘কোড রাইটার’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ‘অপারেটর অফ ইনটেন্ট’-এ রূপান্তর হয়েছে, যেখানে এআই-কে সঠিক নির্দেশনা দেওয়াই মূল দক্ষতার পরিচয়।

দেশে ডিজিটাল অবকাঠামো ও সরকারের উদ্যোগ

বাংলাদেশে ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের ১০ শতাংশ এলাকাকে ৫জি কাভারেজের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা  হয়েছে, যা আইটি খাতে বড় ধরনের বিপ্লব ঘটাবে। একইসঙ্গে, ব্যবহারকারীদের জন্য  ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত  করতে ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে, যা ডিজিটাল সেবাকে আরও গতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুন আশার আলো

২০২৬ সালে ফ্রিল্যান্সিং পেশা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া, নিবন্ধিত স্টার্টআপগুলোর জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং শূন্য শতাংশ টার্নওভার ট্যাক্সের মতো বিশেষ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

এআই-এর প্রয়োগ ও দক্ষ জনশক্তির চ্যালেঞ্জ

কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি প্রশাসনিক কাজে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। তবে আইটি খাতের এই ব্যাপক প্রসারের মাঝে ‘দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি’ এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে টিকে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বিদেশি মডেলের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দেশীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি ও এআই ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে শিক্ষা কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ মডিউল ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে, বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক আইটি বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য হাব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লেখক : কো ফাউন্ডার ই-ফ্রিলান্সিং ডট কম