যুক্তরাজ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত শনিবার রাতে লন্ডনে পৌঁছে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তথ্য অনুসারে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদেশে কোনো মিশনপ্রধানের পদে পরিবর্তন এটাই প্রথম। প্রসঙ্গত, গত বছর ২৭ জানুয়ারি হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিমের স্থলাভিষিক্ত হন আবিদা ইসলাম।
প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, এই হাইকমিশনারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আছে। তিনি এতদিন লন্ডনে ‘ডিভাইসিভ বিহেভিয়ার’ বা বিভাজনমূলক আচরণ করেছেন এবং কমিউনিটিকে বিভক্ত করে রেখেছিলেন।
উপদেষ্টা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য হাইকমিশনকে তিনি আওয়ামীকরণের চেষ্টা করছিলেন। তিনি কমিউনিটির মঙ্গলের কথা না ভেবে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ না দেখে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিলেন। এই কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। হুমায়ুন কবির বলেন, হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম হ্যাজ বিন রিমুভড ফ্রম হার পোস্ট।
গত বছর জানুয়ারিতে নিয়োগের তিন মাসের মাথায় গত ৭ এপ্রিল আবিদাকে প্রত্যাহারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল মানবাধিকার সংগঠন স্ট্যান্ড ফর হিউম্যান রাইটস, রাইট অব দ্য পিপল ও ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল। সেসময় অভিযোগ করা হয়েছিল, আবিদা ইসলাম ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী। তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার থাকাকালে নিজ পকেট থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ করে দূতাবাসের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন করেন। তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার অনুগ্রহ পাওয়ার পাশাপাশি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। গত ১৭ নভেম্বরে বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের সভা চলাকালে তাকে অপদস্থ করা হয়।
পেশাদার কূটনীতিক আবিদা ইসলাম বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। লন্ডনে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে প্রথম নারী ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।

