ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

সর্বোচ্চ সতর্ক বিজিবি

হবিগঞ্জ সীমান্তে গভীর রাতে মাইকিং ও উঠান বৈঠক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৪৭ এএম

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে লোক ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার প্রায় ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ২৪ ঘণ্টা টহল, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সীমান্ত এলাকায় মাইকিং ও বিশেষ উঠান বৈঠক করছে বিজিবি। তবে গতকাল রোববার পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

গত শনিবার গভীর রাত থেকে চুনারুঘাট ও মাধবপুরের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক এই মাইকিং শুরু করে ৫৫ বিজিবির সদস্যরা। এ ছাড়া নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুশ ইনের ঝুঁকি, সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্তকরণ এবং যেকোনো জরুরি তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানানোর বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। এই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গ্রামপুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।

বিজিবির এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল এলাকার বাসিন্দা মজনু মিয়া জানান, গভীর রাতে মাইকিং করে সতর্ক করায় সীমান্তবর্তী সবাই এখন অনেক বেশি সচেতন। বিজিবির নিয়মিত পাহারায় তারা নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন। অন্যদিকে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের এক কর্মী বলেন, বিজিবির উঠান বৈঠকের কারণে সাধারণ মানুষ এখন সন্দেহজনক লোকজনকে চেনা এবং সে বিষয়ে তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পেরেছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, মাইকিং ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হবিগঞ্জ বিজিবির ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে (বর্ডার আউটপোস্ট) টহল জোরদারের পাশাপাশি বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এমনকি রাত্রিকালীন নিরাপত্তা ও নজরদারি নিখুঁত করতে থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলে জানান তিনি।