ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

আজাদ কাশ্মীরে সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত ১১, আহত ৭০

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার পুলিশ সদস্য, ছয় বিক্ষোভকারী ও একজন পথচারী রয়েছেন।

পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনরত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) কর্মীরা একটি হাসপাতালের মর্গের বাইরে জড়ো হন। সেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত সংগঠনটির এক সদস্যের মরদেহ নেওয়া হয়েছিল।

পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খান রয়টার্সকে বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে চার পুলিশ কর্মকর্তা ও এক পথচারী নিহত হয়েছেন।’

তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

অঞ্চলটির পুলিশ প্রধান লিয়াকত মালিক জানান, রোববারের সংঘর্ষে ২৩ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জেএএসি নেতা শওকত নওয়াজ মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, রাওয়ালকোটে রাষ্ট্র আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু করেছে। তিনি ৯ জুনের লকডাউন কর্মসূচি সফল করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

তবে কমিশনার ওয়াহিদ খান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, জেএএসি নেতৃত্ব ঘটনাকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যই রাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জেএএসি কর্মীরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রোল বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়।

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর আইনসভার ৪৫টি আসনের মধ্যে শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের বিরোধিতা করে জেএএসি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব আসন বাতিল করতে হবে, কারণ এসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অনেক প্রার্থী কাশ্মীরে নয়, পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলে বসবাস করেন।

এর আগে শুক্রবার আঞ্চলিক সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসি-কে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে। পাশাপাশি ৯ জুনের আগে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অঞ্চল ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আটা ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত দুই বছরে জেএএসি’র নেতৃত্বে একাধিক গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সংগঠনটির সমর্থক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা কয়েকবার প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে।