জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে একজনকে পুশইনের চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পতাকা বৈঠক করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় সীমান্তে অবস্থান নিয়েছেন বিজিবি ও স্থানীয়রা। গতকাল বুধবার সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর এলাকায় ভারতীয় সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১-দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। ওই ব্যক্তি ভারতের চেন্নাইয়ে বসবাস করতেন। বিষয়টি টের পেয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবির সদস্যরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতিরোধ করে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয় প্রায় ৬০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি। এ নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামালপুর-৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বৈঠকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে ফেরত না নিয়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রেখেই চলে যায়। পরে বৈঠক সফল না হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয় সীমান্তে। বিএসএফ বারবার ওই ব্যক্তিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিরোধের মুখে ফিরে যাচ্ছেন ওই ব্যক্তি।
এ সময় বিএসএফের এক সদস্য বিজিবিকে বলেন, এখান থেকে আপনারা সরে না গেলে গুলি করব। এ কথা শুনে বিজিবি সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আপনি কেন গুলি করার কথা বললেন? আপনি এটা কী বললেন, গুলি করবেন মানে। গুলি আপনার কাছে আছে, আমাদের কাছে নেই।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিএসএফ এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করছেÑ এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে অবস্থান করছি। আমরা ভারত থেকে কোনো নাগরিককে বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না।
এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরেই বিএসএফ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করছে। সকালে ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে ভারত থেকে শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠায়। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেয়। আমরা বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকও করেছি। কিন্তু তারা ওই ব্যক্তিকে ফেরত না নিয়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রেখে চলে যায়।
পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১১ দলের কর্মসূচি : বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী সব জেলাসহ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১-দলীয় ঐক্য। এ ছাড়া ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগের শহিদ ওসমান হাদি চত্বরে এই বিরোধী জোট বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্তে হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান পরিস্থিতি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সীমান্তে হত্যার যে চিত্র দেখা যায়, সেটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে ২৬ জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতিবেশীমূলক আচরণ না করে বাংলাদেশের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে যাচ্ছে। তারা বলে, ভারতের ডিকশনারিতে পুশইন বলে কিছু নেই। তবে তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে জোরপূর্বক অনেক লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিজিবির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে না তুললে ভারত এত দিনে তাদের দেশের অনেক নাগরিককে এ দেশে পুশইন করত। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় পুশইন হয়েছে।

