ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাব সন্তোষজনক নয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৪৯ এএম

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া শোকজের জবাব সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় প্রয়োজনীয় তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বেশি রয়েছে। মূল কথার চাইতে গাল-গল্পই বেশি। তাই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল যে জবাব দিয়েছে, সেটি আমি পড়েছি। প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে অনেক গল্প-কাহিনি তারা লিখেছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ব্যাখ্যা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, তারা চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠার জবাব দিয়েছে, কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বেশি। এটি অনেকটা ভেগ (অস্পষ্ট) রিপ্লাই। আমি এতে সন্তুষ্ট নই। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আজকের বৈঠকের পর পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের অবস্থানও বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।

গ্রামের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রথম কৃতিত্ব শহীদ জিয়ার : এদিন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আধুনিকায়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের প্রতিটি থানা হেডকোয়ার্টারে ৩১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে তিনিই গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানা হেডকোয়ার্টারে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এ দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত পথপ্রদর্শক। শহীদ জিয়ার দেখানো পথ অনুসরণ করেই পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন। শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ৩১ বা ৫০ শয্যার বিদ্যমান সব হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছি।

স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি শহীদ জিয়ার অন্যান্য কালজয়ী কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে শহীদ জিয়া যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, বর্তমান সরকারও পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে তা পুনরায় চালু করেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকালই একনেক সভায় বরিশালের জন্য একটি খাল খনন প্রকল্প পাস করা হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, গেল শতাব্দীর সত্তরের দশকে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব না দিলে দেশের জনসংখ্যা এত দিনে ৪০ কোটি হয়ে যেত। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের প্রতিটি থানা হেডকোয়ার্টারে ৩১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে তিনিই গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। জন্ম নিয়ন্ত্রণে জিয়াউর রহমানের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, বিএনপি ৭৭ সালে সরকার গঠনের পর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়েছিল। যেটার সফলতার কথা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এখনো আলোচনা হয়।

সেটি না করলে হয়তো বর্তমানে দেশে ২০ কোটির জায়গায় ৪০ কোটি মানুষ হতো। এ ছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদান কর্মসূচি বিএনপিরই অবদান।

সভায় অন্যদের মধ্যে ড্যাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কেনান, মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল ও সাবেক মহাসচিব মো. আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।