ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত শূন্যরেখায় থাকা ১২ জনকে ৭৮ ঘণ্টা পর ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

কুষ্টিয়া ও জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৫:৪৭ এএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থানকারী পুশইন চেষ্টার শিকার ১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল সোমবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বেলা ১১টার দিকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। এতে দীর্ঘ ৭৮ ঘণ্টা পর ওই ১২ জনের দুর্বিষহ জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে জয়পুরহাট সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা বৃদ্ধকেও সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।

গত শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তাদের মধ্যে চারটি শিশু আছে। তবে বিজিবির সদস্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা তাদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেন। এরপর প্রথম দফায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানায় যে, তারা যাচাই করছে ওই ব্যক্তিরা তাদের দেশের নাগরিক কি না। নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তবে বিজিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তারা পরিচয় যাচাই করছেন না।

এভাবে দুই দেশের মধ্যে কঠোর অবস্থান চলতে থাকে। এতে টানা তিন দিন চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই ১২ জন। একপর্যায়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। খাবারসহ নানা সমস্যার মুখে পড়েন। স্থানীয় বাংলাদেশিরা কৌশলে তাদের কাছে কিছু খাবার পৌঁছে দেন। দিন-রাত কাটে পাটখেতের আলে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারের পাশে, যেখানে ওই ১২ জন অবস্থান করছিলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আবারও একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ সদস্যরা তাদের শূন্যরেখা থেকে নিজেদের ভূখ-ে নিয়ে যান।

পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বিএসএফের পক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের পর বিএসএফ তাদের বেলা ১১টার দিকে কাঁটাতারের ভেতর নিয়ে গেছে।

এদিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় পুশইনের চেষ্টা করা সেই বৃদ্ধকেও গতকাল আর দেখা যায়নি। স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার দিনভর শূন্যরেখায় অবস্থান করানোর পর রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে বিএসএফ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

গতকাল দুপুরে হাটখোলা সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শূন্যরেখায় ওই বৃদ্ধ নেই। স্থানীয় লোকজন বলেন, রোববার সকালে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে। গ্রামবাসী তাকে আটকে রেখে বিজিবিকে খবর দেন। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা বৃদ্ধকে পুশব্যাক করে ভারতীয় ভূখ-ে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিএসএফ সদস্যরা দফায় দফায় বৃদ্ধকে আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সন্ধ্যার পর সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ভারতীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাতে সফল হতে পারেনি বিএসএফ। পরে রাত ৯টার পর বিএসএফ বৃদ্ধকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।